সায়ানের প্রতিক্রিয়া জোহরান মামদানির জয়ের বিষয়ে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৬ বার
সায়ানের প্রতিক্রিয়া জোহরান মামদানির জয়ের বিষয়ে

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

নিউ ইয়র্ক সিটির নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো মুসলমান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত নেতা নিউ ইয়র্ক শহরের মেয়র নির্বাচিত হলেন। এই অনন্য অর্জন সামাজিক মাধ্যমেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশী সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজে এই বিজয় উদযাপন করেছেন এবং এতে ব্যক্তিগত প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন।

আজ বুধবার (৫ নভেম্বর) সায়ান লিখেছেন, “জোহরান মামদানীর নিউ ইয়র্ক শহরে মেয়র নির্বাচিত হওয়া আমাকে অনেক আশা দিয়েছে। তিনি তার অনেক পরিচয়ের মধ্যে মুসলমান পরিচয়কেও সামনে এনেই তার রাজনীতি করেছেন। এটাও খুব শক্তিশালী। আশা আর নিরাশার মধ্যে মানুষ হিসেবে আমাদের যাত্রা করে যেতে হবে। নিরাশা আছে, কিন্তু আমি নিরাশার প্রচারক হবো না। যদি হই, তবে আশা হতে চাই।”

সায়ান ধর্মের ভিত্তিতে কোনো মানুষকে ঘৃণা করতে রাজি নন জানিয়ে আরও লিখেছেন, “আমি একজন মুসলমানের মেয়ে। এবং আমি এরকমই মুসলমান থাকবো। কোনো অবস্থাতেই, কোন যুক্তিতেই আমি পৃথিবীর আর কোনো মানুষকে ধর্মের ভিত্তিতে ঘৃণা করতে রাজি নই। আমি কাউকে আমার থেকে ছোট বা বড় ভাবতে রাজি নই। আমার মুসলমানীত্বের মান এই উচ্চতায় পৌঁছানো উচিত যে, প্রতিটি উচ্চারণ হবে সকল মানুষের সমান মর্যাদার পক্ষে। আমার চাওয়াটা, আমার বিশ্বাসটা এর চেয়ে কম হলে আমি নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবেও স্বীকার করি না। আজকের পৃথিবীর মানুষ হতে হলে, নিজের কাছে আমার এটুকু ন্যূনতম প্রত্যাশা থাকা দরকার। এটাই আমার শিল্প। এটাই আমার রাজনীতি। এটাই আমার ধর্ম।”

সায়ান আরও বলেন, “আজকের আনন্দকে দেখেও না দেখার ভান করে, আজকের অন্যায়কে দেখেও না দেখার ভান করে, কিছুই অনুভব না করে কপটতায় সব কিছুর ঊর্ধ্বে থাকতে চেয়ে, শুধু শুধু মিছিমিছি ফুল-পাখির গান গাওয়ায় আমি সুখ পাই না। সেই পানসে গানে মজা নেই। আমি প্রতিদিন এমন শিল্পী হতে চাই, যার প্রতিটি উচ্চারণে আজকের মঙ্গল ও প্রতিরোধের কথা থাকবে, আজকের রাজনীতির কথা থাকবে, আজকের মানুষের কথা থাকবে, আজকের প্রকৃতির কথা থাকবে। এই সমস্ত মিলিয়ে যে চর্চা হবে, সেটাই আমার কাছে সত্য ও সৌন্দর্যের চর্চা, আমার রাজনীতি এবং ধর্মের চর্চা।”

জোহরান মামদানির বিজয়কে উদযাপন করতে গিয়ে সায়ান বলেন, “আজকের বিজয়কে আমরা আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করি এবং অনুপ্রাণিত হই। এই বিজয় আমার উপর আরও গভীর দায়িত্ব আরোপ করে। একটি ন্যায্য পৃথিবীর জন্য আমাদের প্রত্যেককেই আমাদের সর্বোচ্চ পরিশ্রম দিয়ে, যার যার জায়গায় কাজ করতে হবে। আমি চুপচাপ থেকে কোনো ঘৃণার বিরুদ্ধে নীরব দর্শক হবো না।”

তিনি শেষের দিকে আরও ব্যক্ত করেন, “আমি একটি প্রেমের কবিতা পড়বো এবং হাজারবার ভালোবাসার কথা বলবো। এটাই আমার প্রতিরোধ, এটাই আমার শিল্প। কেউ যদি অন্য ধর্মের মানুষকে অপমান করে, আমি সেসবকে নিজের অন্তরে গ্রহণ করবো এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। এটাই আমার ধর্ম এবং শিল্প। এটাই আমার রাজনীতি। আমি ঘৃণার পক্ষে নই, এবং জানি আমি একলা নই। ভালোবাসা দিয়েই মানুষের রাজনীতি করবো। ভালোবাসা দিয়েই বিভাজনের রাজনীতিকে পরাজিত করার চেষ্টা করবো। এটাই আমার সাধনা এবং আমার লড়াই। এটাই আমার পথ।”

সায়ানের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি শুধু জোহরান মামদানির বিজয় উদযাপন করছেন না, বরং এটি তাঁর শিল্প, রাজনীতি ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তিনি বিশ্বাস করেন, সমাজে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা সমান হওয়া উচিত এবং ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে এই নীতিই অনুসরণ করা উচিত। তাঁর প্রতিক্রিয়া শুধু উদযাপন নয়, বরং একটি মানবিক, সমানাধিকার এবং সহমর্মিতার বার্তা বহন করছে।

এই বিজয় এবং সায়ানের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বাংলাদেশী সম্প্রদায়ের মধ্যে একটি ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি দেখাচ্ছে, রাজনৈতিক ইতিহাসের এ ধরনের অগ্রগতি কেবল ব্যক্তির নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি প্রেরণার উদাহরণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত