প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর বুধবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি তদারকিতে বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন সংস্থা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ১৮ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দল। বুধবার (৫ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
বৈঠকের পরে গণমাধ্যমকে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বৈঠকের বিস্তারিত তুলে ধরে জানান, নির্বাচনের সময় গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে যত্নশীল হতে হবে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু কার্যক্রম নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গণভোট হলে জুলাই সনদের আদেশ সহজ হবে। একইদিনে গণভোট হলে ভোটের ফলাফল উপেক্ষণযোগ্য (ইগনোরেবল) হয়ে যেতে পারে। তাই কমভোটে গণভোট হলে এটা নিয়ে রাজনৈতিক টালবাহানা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই কারণেই পাতানো ফাঁদে পা দেওয়ার সুযোগ নেই।”
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাছে জামায়াতের প্রস্তাবনা মূলত ভোটের সময় ন্যায্যতা, প্রার্থীদের সমান সুযোগ ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন এই প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ ও সমন্বয় নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাদের ১৮ দফা প্রস্তাবনায় সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা, নির্বাচনী আচরণবিধি, ভোট গ্রহণের স্বচ্ছতা ও বিভিন্ন পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ বিষয়ক নির্দেশনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, “আমরা চাই যে প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবে, প্রার্থীদের সমানভাবে প্রচারণার সুযোগ থাকবে এবং নির্বাচনের ফলাফল সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এটি না হলে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণভোটের নামে কোনো প্রকার রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ফাঁদ বা বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে তা জনগণের স্বার্থহানি ঘটাবে।
জামায়াতের প্রস্তাবনায় নির্বাচনের জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, ভোটার তালিকা যাচাই, ইভিএম বা ব্যালট ব্যবস্থার সুষ্ঠু কার্যক্রম এবং নির্বাচনের সময় বিরোধী দল ও সাধারণ জনগণের অধিকার সংরক্ষণের বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে তারা চাইছে, নির্বাচন যেন একেবারেই স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রতিটি নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও বড় দলগুলো নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং ভোটের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে বৈঠক ও পরামর্শ সভায় অংশগ্রহণ করে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করা নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জামায়াতের প্রস্তাবনা এই প্রেক্ষাপটেই রাখা হয়েছে।
বুধবারের বৈঠকের পর হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, জনগণ যেন নির্বাচনের দিনে কোনো প্রকার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির শিকার না হয়, সেজন্য কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। তিনি সতর্কবার্তা দিয়েছেন, ভোটের নামে কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র বা প্রতারণা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সমালোচনার জন্ম দিতে পারে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে হুমকির মুখে ফেলবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের এই উদ্যোগ রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের সমান সুযোগ সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই বৈঠক দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ডের উন্নয়নে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জামায়াতের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট যে, গণভোট ও নির্বাচনে জনগণের স্বাধীন ও নিরাপদ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোনো প্রকার ফাঁদ বা প্রলোভনে পা দেয়ার সুযোগ নেই। নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া ১৮ দফা প্রস্তাবনার মধ্যে ভোটের সুষ্ঠু প্রক্রিয়া, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, ভোটারদের সঠিক তথ্য সরবরাহ এবং প্রার্থীদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা মূল বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম।
এই প্রস্তাবনা এবং বৈঠক নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এতে ভোটের দিন যেন কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অনিয়ম না ঘটে এবং জনগণের ভোটাধিকার সংরক্ষিত থাকে, তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।