ড. জাকির নায়েকের বাংলাদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা: জবিতে প্রতিবাদ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯ বার

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ইসলামিক স্কলার ড. জাকির নায়েককে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা। বুধবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী ও সংগঠনের নেতারা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলে বলেন, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এখানে কে আসবে এবং কে আসবে না, তা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত দেশের জনগণের হাতে থাকা উচিত, বিদেশি শক্তির প্রভাবের অধীনে নয়। তারা উল্লেখ করেন, ভারতের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি।

আপ বাংলাদেশের জবি শাখার সংগঠক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “গত ১৫ বছরে বর্তমান সরকার ভারতের প্রভাবের কারণে দেশের স্বাধীন নীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানই ছিল ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক প্রতিক্রিয়া। আমরা ভেবেছিলাম যে বর্তমান সরকার দেশের স্বার্থে কাজ করবে, কিন্তু ভারতীয় প্রভাবের কারণে ড. জাকির নায়েককে বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের ছোটখাটো বিষয়েও ভারতীয় আধিপত্য বিস্তার করছে। ৫ আগস্টের পর দেশের মানুষ আর ভারতীয় প্রভাব মেনে নেবে না। আমরা চাই, দেশের স্বাধীন ও স্বতন্ত্র নীতি প্রতিষ্ঠিত হোক।”

আপ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য মাসুদ রানা বলেন, “যদি ভারত ড. জাকির নায়েককে ফেরত চায়, তবে আগে খুনি হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে। ড. জাকির নায়েক কোনো অপরাধী নন; তিনি ২০০ কোটি মুসলিমের হৃদয়ের স্পন্দন। নরেন্দ্র মোদির কাছে তিনি সন্ত্রাসী হতে পারেন, কিন্তু আমাদের কাছে তিনি শান্তির দূত। আমরা চাই, তিনি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে আসতে পারেন এবং দেশের জনগণ তার শিক্ষা ও তত্ত্বাবধান থেকে উপকৃত হতে পারে।”

মানববন্ধনে বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, অবিলম্বে ড. জাকির নায়েককে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। এছাড়া তারা দেশকে ভারতীয় প্রভাবমুক্ত, স্বাধীন এবং স্বকেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের জন্যও জোরালো দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, আজকের বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ধর্ম, শিক্ষা ও মানবাধিকারকে কেন্দ্র করে স্বাধীনভাবে চিন্তা ও কর্মের সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সতর্ক করে জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বাধীন চিন্তার অধিকার হ্রাস করলে ভবিষ্যতে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়বে।

মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ মনে করিয়ে দেন যে, কোনো দেশের সরকারই বিদেশের প্রভাবের অধীনে দেশের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা নির্ধারণ করতে পারে না। তারা বলেন, দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতার অধিকার রক্ষা করাই শিক্ষার্থীদের মূল লক্ষ্য।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই মানববন্ধন শুধুমাত্র প্রতিবাদ নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতির প্রতি সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে আয়োজন করা হয়েছে। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের নীতি নির্ধারকরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন এবং দেশের স্বাধীন ও স্বকেন্দ্রিক নীতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

মানববন্ধন শেষে বক্তারা জানান, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং জনগণের মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করাই এই কর্মসূচির মূল বার্তা। তারা পুনরায় জোর দেন যে, দেশের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকার ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সচেতন থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত