প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাহ এএসএম কিবরিয়া-র ছেলে এবং বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ-রাজনীতিক রেজা কিবরিয়া সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন। তিনি নিজেই গত বুধবার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইতোমধ্যেই দলীয় প্রাথমিক সদস্য ফরম পূরণ করে ফেলেছেন এবং কিছু দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান সম্পন্ন করবেন। তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ (আজমিরীগঞ্জ-বাহুবল) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা রাখছেন। এই আসনে বিএনপি এখনও প্রার্থী ঘোষণা করে নাই; সোমবার ঘোষিত ২৩৭টি আসন থেকে ওই আসনসহ ৬৩টি শূন্য রয়েছে।
রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রণ্টের ব্যানারে খানিক আগে এই একই আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে লড়েছিলেন, তবে জয়ী হতে পারেননি। এরপর তিনি দলের নেত্রীত্বে ছিলেন গণফোরাম-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এবং পরে গণঅধিকার পরিষদ-র আহ্বায়ক হয়ে ওঠেন। কিছুসময় রাজনীতিতে কম সক্রিয় হয়ে পড়লেও এবার বিএনপিতে যোগ দিয়ে আবারও কার্যকর রাজনীতিতে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাজনীতিতে তাঁর এই পদক্ষেপ দল-বিভাজন ও দলান্তরিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রেক্ষাপটে অনেক অর্থ বহন করছে। নিজ এলাকায় গভীর রাজনৈতিক নিয়োগ ও সামাজিক সংযোগ রয়েছে রেজা কিবরিয়ার। হবিগঞ্জ-১ এলাকায় তাঁর আগের নির্বাচন-লড়াই, সামাজিক কার্যক্রম ও পরিবারের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মিলিয়ে সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে দলের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষকরা দেখছেন। অন্যদিকে, বিএনপি-র জন্যও এটি একটি নতুন রাজনৈতিক সংকেত—দলটি ফাঁকা রাখা গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে সম্ভাব্য শক্তিধর প্রার্থী নিয়ে চিন্তিত ছিল; রেজা কিবরিয়ার মত নাম যোগ হওয়ার ফলে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় গতি আসতে পারে।
রাজনীতির বর্তমান ধারা বিবেচনায় রেখে বলা যায়, যুক্তরাজ্য-আন্তর্জাতিক কর্মজীবনের পর দেশে ফিরে সক্রিয় হওয়া রেজা কিবরিয়ার সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত পরিকল্পনা নয়—এটি বাংলাদেশের বড় একটি রাজনৈতিক দল-বদল ও নতুন পরিবর্তনের প্রতিচ্ছবি। বর্তায় নির্বাচনী সময়ের আগে দলগুলোর মনোবল, সামাজিক ভিত্তি ও প্রার্থীর জনপ্রিয়তা বড় ভূমিকা রাখছে। রেজা কিবরিয়া যেমন নিজ এলাকায় সামাজিক ও রাজনৈতিক উভয় ক্ষেত্রে পরিচিত, ঠিক তেমনি বিএনপি-র জন্য এটা যেমন একটি প্রার্থীর নতুন সম্ভাবনা, তেমনি প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ।
বর্তে দ্রুত পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, রেজা কিবরিয়াকে এখন শুধু বিএনপি-র প্রার্থী হিসেবে নয়; হলেও এক ধরনের সামাজিক-রাজনৈতিক ব্রিজ হিসেবে দেখা যেতে পারে—যিনি বিদ্যমান রাজনৈতিক শক্তির বাইরে থেকে আসছেন, তবে একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী প্রতীকে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে হবিগঞ্জ-১ আসনে নড়চড় শুরু হয়েছে, এবং সময় অনুযায়ী দল-নির্ধারণ ও মনোনয়ন প্রসেসে নতুন গতিতে এগোয় এমন কূটনীতি তৈরি হচ্ছে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—বিএনপি রেজা কিবরিয়াকে মনোনয়ন দেবে কি না এবং তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন কি না। যদি তা হয়, তবে এটি হবিগঞ্জ-১ এলাকায় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে এবং আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দৃশ্যপট কিছুটা বদলে যেতে পারে। এজন্য আগামিদিনগুলোতে মনোনয়ন প্রসেস, স্থানীয় জনমত ও দলীয় সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।