তারেক রহমানের বার্তা: মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের শুভেচ্ছা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
তারেক রহমান

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেশবাসীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই বার্তা পাঠান।

তারেক রহমান তার পোস্টে লিখেছেন, “মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তাদের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করি।” তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব কেবল একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা নয়, বরং এদেশে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সূচনাও বটে। সেই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায় এবং গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন ঘটে।

তারেক রহমান লিখেছেন, ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক দিনে সিপাহী-জনতা দেশপ্রেমে উদ্দীপ্ত হয়ে রাজপথে নেমেছিল জাতীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে। এই ঘটনার ফলে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মুক্ত হন এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসে। গণতন্ত্র অর্গলমুক্ত হয় এবং বাক-ব্যক্তি ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে, তবে আধিপত্যবাদী শক্তির এদেশীয় এজেন্টরা রাষ্ট্রপতি জিয়াকে ১৯৮১ সালে হত্যা করে।

তিনি বলেন, জিয়ার শাহাদাত হলেও তার আদর্শে বলীয়ান মানুষ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এখনও ঐক্যবদ্ধ। তারেক রহমান পোস্টে উল্লেখ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা দীর্ঘ ১৬ বছর দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখে। এসময় তারা ন্যায়নিষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দমন, গুম, হত্যা এবং বিচার-বহির্ভূত হত্যার মাধ্যমে ভয়াল শাসন চালায়। বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি করে বহু বছর মুক্তি দেননি।

তারেক রহমান লিখেছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মদান এবং গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের অঙ্গীকারের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথ প্রসারিত হয় এবং এখন চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন, মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা এবং ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা অত্যাবশ্যক।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা পরিকল্পিতভাবে দেশের কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করেছে। তাই ৭ নভেম্বরের চেতনায় জাতীয়তাবাদী শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে শক্তিশালী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। এছাড়া দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি।

তারেক রহমানের শুভেচ্ছাবার্তায় তিনি দেশের মানুষকে বলেন, “জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে দেশবাসীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আল্লাহ হাফেজ, বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।”

পোস্টের মাধ্যমে তারেক রহমান শুধু একটি ঐতিহাসিক বার্তা নয়, দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শক্তি পুনরুদ্ধার এবং ভবিষ্যতের জন্য রাজনৈতিক ঐক্য রক্ষার আহ্বানও জানিয়েছেন। বার্তাটি পাঠকদের মধ্যে ইতিহাস সচেতনতা জাগানোর পাশাপাশি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাতীয় ঐক্য ও গণতন্ত্রের চর্চার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে।

এই শুভেচ্ছাবার্তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং রাজনৈতিক মহলে তা ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তারেক রহমানের বার্তা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ঐতিহাসিক স্মৃতির সঙ্গে জনগণের সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com