ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগি: নিহত ১৮৮, নিখোঁজ ১৩৫

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১২ বার
ফিলিপাইনে টাইফুন কালমেগি: নিহত ১৮৮, নিখোঁজ ১৩৫

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শক্তিশালী টাইফুন কালমেগি ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে তাণ্ডব চালিয়ে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৮ জনে। এছাড়া অন্তত ১৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ভিয়েতনামে ঝড়ের তাণ্ডবে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) যুক্তরাজ্যভিত্তিক গণমাধ্যম বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ঘণ্টায় প্রায় দেড়শ’ কিলোমিটার গতিবেগে ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় কালমেগি। তার প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি, ঝড়ো বাতাস ও বন্যার সৃষ্টি হয়। ঘূর্ণিঝড়টির আঘাতে বাড়িঘরের ছাদ উড়ে যায়, বড় বড় জানালা ভেঙে পড়ে, এবং প্রবল বাতাসে বহু গাছ উপড়ে পড়ে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ঝড়ের তাণ্ডবে রাতভর থেমে থেমে প্রবল বৃষ্টি ও বাতাসের ধাক্কায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য স্কুল ও সরকারি ভবনগুলো খোলা হয়। হাজার হাজার মানুষকে সেখানেই স্থানান্তর করা হয়। সেনাবাহিনী ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় মাঠে নামায়। বিভিন্ন নিচু এলাকা এবং বন্যা প্রবণ অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

ফিলিপাইনের সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন অঞ্চলে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেসব এলাকা ঝড়ের তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে মানুষদের খাবার, পানি ও চিকিৎসা সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর পুনরুদ্ধারের জন্য জরুরি তহবিলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের পূর্বাঞ্চল এবং মধ্যাঞ্চলের কিছু অঞ্চল ঝড়ের আঘাতের ফলে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতে নদী ও খালের জলনিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে, ফলে অনেক স্থানে বন্যা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগে যথাযথ সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবুও, মানুষের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিখোঁজের সংখ্যা বেশিরভাগ অঞ্চলে বেশি।

ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা দেশবাসীকে সর্তক করেছেন এবং নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া জরুরি পরিষেবাগুলোর জন্য সেনা, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।

ঝড়টি বর্তমানে ফিলিপাইন থেকে কম্বোডিয়া ও লাওসের দিকে এগোচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ঝড়ের প্রভাব থেকে এশিয়ার অন্যান্য অঞ্চলেও ব্যাপক বৃষ্টি ও বন্যা দেখা দিতে পারে। ফিলিপাইনের আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঝড়ের প্রভাবে দেশের আরও কিছু অংশে ভারী বৃষ্টিপাত এবং বায়ু প্রবল থাকবে।

নিখোঁজদের খোঁজে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। ফিলিপাইনের স্থানীয়রা ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবিতদের উদ্ধার করতে চেষ্টা করছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কালমেগি রাতভর তাণ্ডব চালায়। ঘরে থাকা বহু মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে ছুটে যায়। ঢেউ, ঝড়ো বাতাস এবং ধ্বংসস্তূপের শব্দ মিলিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেকে নিজের জীবন রক্ষার জন্য আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ছুটে গেছে।

ফিলিপাইনের সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলো উদ্ধারকাজে যুক্ত হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের মধ্যাঞ্চল এবং ভিয়েতনামে কালমেগির প্রভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড় এবং বৃষ্টিপাতের ফলে কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, হাজার হাজার মানুষ বাড়িঘর হারিয়েছে এবং এখনও অনেকে নিরাপদ আশ্রয়হীন রয়েছে।

শক্তিশালী টাইফুন কালমেগি প্রমাণ করেছে, আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবগুলো বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় জনগণ এবং প্রশাসনের প্রস্তুতি এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়ক।

এভাবে ফিলিপাইনের ইতিহাসে কালমেগি একটি ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। দেশটি ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নতুন করে পুনর্গঠন ও উদ্ধার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকলেও, আন্তর্জাতিক মহলও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। মানুষের জীবন রক্ষায় তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করতে চাইছে, যেন বাকি মানুষদের ঝড়ের ক্ষতি থেকে নিরাপদ রাখা যায়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত