প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বিশ্বকাপ শুরুর আগমুহূর্তে ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম হয়ে উঠেছিল লিওনেল মেসির চোট। আর্জেন্টিনার কোটি কোটি সমর্থক উদ্বেগে ছিলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের অধিনায়ক আদৌ সময়মতো মাঠে ফিরতে পারবেন কি না। তবে সব শঙ্কা অনেকটাই দূর করে স্বস্তির খবর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামি। সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষায় জানা গেছে, মেসির পায়ে গুরুতর কোনো চোট ধরা পড়েনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এটি মূলত অতিরিক্ত চাপ ও ক্লান্তিজনিত সমস্যা।
সোমবার এক বিবৃতিতে ইন্টার মায়ামি জানায়, ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে ম্যাচের পর মেসির বাঁ পায়ের পেশিতে পরীক্ষা করা হয়। সেখানে বড় ধরনের ক্ষতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসক দলের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন টানা খেলার কারণে তার পেশিতে চাপ তৈরি হয়েছিল। ফলে আপাতত বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিপক্ষে একটি রোমাঞ্চকর ম্যাচে। সেই ম্যাচে ইন্টার মায়ামি ৬-৪ গোলের জয় পায়। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলছিল দলটি এবং মেসিও ছিলেন বেশ প্রাণবন্ত। কিন্তু ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে হঠাৎ বাঁ ঊরুতে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। কিছুক্ষণ খেলার চেষ্টা করলেও পরে মাঠ ছেড়ে সরাসরি বিশ্রামকক্ষে চলে যান। আর তাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে শুরু হয় আলোচনা ও উদ্বেগ।
বিশ্বকাপের আগে মেসির এমন পরিস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনা শিবিরে চাপ তৈরি করে। কারণ বর্তমান ফুটবল বিশ্বে এখনো তিনিই দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম। তার নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা গত বিশ্বকাপে শিরোপা জিতেছিল। শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, দলকে মানসিকভাবে উজ্জীবিত রাখার ক্ষেত্রেও মেসির ভূমিকা অনন্য। ফলে তাকে ছাড়া বিশ্বকাপের কথা ভাবতেই পারছিলেন না সমর্থকেরা।
গত কয়েক বছরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেসির শারীরিক ফিটনেস নিয়ে আলোচনা আরও বেড়েছে। নিয়মিত ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে খেলতে গিয়ে তাকে ব্যস্ত সূচির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে টানা খেলার কারণে খেলোয়াড়দের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে মেসির ক্ষেত্রে যেহেতু সামনে বড় আসর, তাই সামান্য অস্বস্তিও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল।
এদিকে ইতালির জনপ্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানোও জানিয়েছেন, পরীক্ষায় মেসির গুরুতর কোনো চোট ধরা পড়েনি। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, মেসির অবস্থা স্থিতিশীল এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি। এই খবর প্রকাশের পর থেকেই সমর্থকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।
বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আগামী ১১ জুন। আর ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে দল গঠনের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোচিং স্টাফ চাইছে, আসরের আগে কোনো ধরনের ঝুঁকি না নিয়ে মেসিকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলতে।
আর্জেন্টিনার সমর্থকদের কাছে মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি আবেগ, অনুপ্রেরণা এবং আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য শিরোপা ও রেকর্ড গড়লেও বিশ্বকাপ জয় তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই আরেকটি বিশ্বকাপ সামনে রেখে তাকে ঘিরে প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসি সুস্থ থাকলে আর্জেন্টিনা আবারও শিরোপার অন্যতম দাবিদার হয়ে উঠবে। কারণ দলটিতে এখন অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির দারুণ সমন্বয় রয়েছে। তবে সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতেই আছেন মেসি। মাঠে তার উপস্থিতি শুধু আর্জেন্টিনাকেই শক্তিশালী করে না, পুরো বিশ্বকাপকেই আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
সমর্থকদের আশা, সামান্য এই শারীরিক অস্বস্তি দ্রুত কাটিয়ে আবারও মাঠে ফিরবেন মেসি। বিশ্বকাপের মঞ্চে তার জাদুকরী ফুটবল দেখার অপেক্ষায় এখন পুরো ফুটবল বিশ্ব।