প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দীর্ঘ প্রস্তুতির পর অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ। রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ বাংলাদেশ সময় বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রথম ওয়ানডেতে মুখোমুখি হচ্ছে এশিয়ার দুই ক্রিকেট পরাশক্তি। তিন ম্যাচের এই সিরিজকে ঘিরে দুই দলই উচ্ছ্বসিত, বিশেষ করে আসন্ন ত্রিদেশীয় সিরিজকে সামনে রেখে নিজেদের শক্তি ও কৌশল যাচাইয়ের আদর্শ সুযোগ হিসেবেই দেখছে তারা।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এই সিরিজ আয়োজন করেছে মূলত জিম্বাবুয়েকে নিয়ে শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তুতি হিসেবে। তাই সিরিজটির গুরুত্ব অনেক। রাওয়ালপিন্ডির মাঠে ক্রিকেটপ্রেমীদের ভিড়ও প্রত্যাশিতভাবে হবে বিশাল, কারণ দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানের মাটিতে আবারও আন্তর্জাতিক ওয়ানডে সিরিজের আবহ তৈরি হয়েছে।
দুই দলই সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে রয়েছে। পাকিস্তান তাদের শেষ ওয়ানডে সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জ্বল। সিরিজের শেষ ম্যাচে তাদের ব্যাটারদের ঝড়ো ইনিংস ও বোলারদের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণই জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। অধিনায়ক বাবর আজম ও ওপেনার ফখর জামান রয়েছেন দুর্দান্ত ছন্দে। দলের কোচ গ্রান্ট ব্র্যাডবার্ন জানিয়েছেন, “এই সিরিজের লক্ষ্য হলো দলের ব্যাটিং ইউনিটকে আরও ধারালো করা ও বোলিং আক্রমণে নতুন কৌশল পরীক্ষা করা।”
অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কাও কম প্রস্তুত নয়। তারা সবশেষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুই ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করে পাকিস্তান সফরে এসেছে। অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস নেতৃত্বে দলে দেখা যাচ্ছে ভারসাম্য ও আত্মবিশ্বাস। স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা ও তরুণ পেসার দুশমান্থ চামিরার পারফরম্যান্সই সিরিজে তাদের মূল অস্ত্র হতে পারে। দলের প্রধান কোচ ক্রিস সিলভারউড জানিয়েছেন, “আমরা জানি পাকিস্তানের কন্ডিশন সহজ নয়, তবে আমাদের স্পিন-ফাস্ট কম্বিনেশন যেকোনো দলের বিপক্ষে কার্যকর হতে পারে।”
এই সিরিজ সামনে রেখে পাকিস্তান দল সামান্য পরিবর্তন এনেছে। ব্যাটার হাসান নাওয়াজকে বাদ দিয়ে বাকিদের আগের স্কোয়াডেই রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা দল নিয়েই মাঠে নামবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উভয় দলই প্রথম ম্যাচে জয়ের জন্য পূর্ণ শক্তিতে নামতে চায়।
পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা ওয়ানডে ফরম্যাটে এখন পর্যন্ত ১৫৭ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তান জয় পেয়েছে ৯৩ ম্যাচে, আর শ্রীলঙ্কা জয় পেয়েছে ৫৯ ম্যাচে। চারটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে এবং একটিতে টাই হয়েছে। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, ইতিহাসে পাকিস্তানের দাপট বেশি, তবে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রীলঙ্কার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডির উইকেট সাধারণত ব্যাটিং-বান্ধব হিসেবে পরিচিত। তবে সন্ধ্যার পর শিশিরের প্রভাব বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচের সময় থাকবে হালকা ঠান্ডা হাওয়া, যা ফাস্ট বোলারদের জন্য সহায়ক হতে পারে। পাকিস্তানের পেস ত্রয়ী শাহিন শাহ আফ্রিদি, হারিস রউফ ও নাসিম শাহ শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিংয়ের কৌশল নিতে পারে। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের লক্ষ্য হবে নতুন বলে টিকে থাকা ও ইনিংস গড়া।
দুই দলের সমর্থকরাই অপেক্ষায় রয়েছেন এক উত্তেজনাপূর্ণ সিরিজের। পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীদের আশা, তাদের দল রাওয়ালপিন্ডির নিজস্ব মাটিতে জয় দিয়ে শুরু করবে, অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা চায় বিদেশের মাটিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে। বিশেষত আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের অবস্থান মজবুত করার লড়াইয়েও এই সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ম্যাচকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পিসিবি ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামের প্রবেশপথে কঠোর নিরাপত্তা বলয় থাকবে। মাঠের বাইরের পাশাপাশি অনলাইনেও টিকিট বিক্রি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণে। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রীও জানিয়েছেন, “এই সিরিজ কেবল ক্রিকেট নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করার সুযোগ।”
পাকিস্তান দলে আজ নজর থাকবে বাবর আজম ও ইমাম-উল-হকের ব্যাটে। এছাড়া অলরাউন্ডার শাদাব খানও ফিনিশারের ভূমিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিসের ব্যাটিং পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে ম্যাচের গতি কোন দিকে যাবে।
রাওয়ালপিন্ডির গ্যালারিতে যখন সবুজ ও নীল পতাকা দোলাবে, তখন ক্রিকেট বিশ্ব তাকিয়ে থাকবে এই দুই এশীয় শক্তির লড়াইয়ের দিকে। সিরিজের শুরুতেই উত্তেজনা, প্রত্যাশা আর প্রতিযোগিতার মিশেলে তৈরি হবে এক রোমাঞ্চকর ক্রিকেট উৎসব। আজকের ম্যাচে যারাই জিতুক, ক্রিকেটপ্রেমীরা নিশ্চিতভাবে উপভোগ করবেন এক চিত্তাকর্ষক লড়াই, যেখানে প্রতিটি বলেই থাকবে অনিশ্চয়তা, প্রতিটি রানেই থাকবে রোমাঞ্চ।