প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
দেশের চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ নিয়ে আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি। রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দুপুর ১২টায় শুরু হবে এ সংবাদ সম্মেলন। এতে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির নিয়মিত বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক উত্তপ্ত ঘটনাবলি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। বৈঠকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ, সাংগঠনিক কর্মকৌশল, বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের ভূমিকা, এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো নিয়েও গভীর পর্যালোচনা করা হয়। সভা শেষে দলটির সিদ্ধান্ত জানাতে মঙ্গলবারের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি বলেন, “দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আন্দোলনের পরবর্তী দিকনির্দেশনা জানাতেই দলের শীর্ষ নেতারা সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন।” তিনি আরও জানান, দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং তাঁকে মুক্ত করার দাবিও সংবাদ সম্মেলনের আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপির একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দ্রুত পরিবর্তন এবং ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের’ সম্ভাব্য কর্মকাণ্ডকে সামনে রেখে বিএনপি নেতৃত্ব বিশেষ কৌশল নির্ধারণে ব্যস্ত সময় পার করছে। এ প্রেক্ষাপটে সংবাদ সম্মেলনটি হবে দলের অবস্থান স্পষ্ট করার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকটি গুলশান কার্যালয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে শুরু হয়ে শেষ হয় সোয়া ১১টার দিকে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি লন্ডন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন। এতে দলের সিনিয়র নেতারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বৈঠকের একটি সূত্র জানায়, বিএনপি মনে করছে—দেশে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, নির্বিচার গ্রেপ্তার, এবং দলীয় কর্মসূচি সীমিত করার প্রচেষ্টা গণতন্ত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ। সেই বাস্তবতায়, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চায়। বিশেষ করে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হবে যাতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে তারা গঠনমূলক ভূমিকা রাখে।
দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই রাষ্ট্রের মালিক। সেই মালিকানা ফিরিয়ে আনতেই আমাদের আন্দোলন। সরকারের দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা কিংবা ভয় দেখিয়ে জনগণের আওয়াজ বন্ধ করা যাবে না।”
এদিকে, বিএনপির সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে হাসিনার বাংলাদেশে ঢোকার খবর এবং পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কবার্তা ঘিরে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে বিএনপির বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
দলীয় সূত্র আরও জানিয়েছে, সংবাদ সম্মেলনে শুধু রাজনৈতিক মন্তব্যই নয়, গণআন্দোলনের রূপরেখা সম্পর্কেও কিছু দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও ছাত্রসমাজের অংশগ্রহণ বাড়াতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিএনপি নেতাদের ভাষায়, “দেশ আজ এক গভীর সংকটে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হুমকির মুখে, প্রশাসন দলীয়করণের শিকার—এই বাস্তবতায় আমাদের দায়িত্ব হলো জনগণকে সংগঠিত করা।”
সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
দলীয় গণমাধ্যম ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার প্রতিনিধিরাও সংবাদ সম্মেলনটি কাভার করবেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, আজকের এই সংবাদ সম্মেলন বিএনপির পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল এবং গণআন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণে একটি বড় বার্তা বহন করবে।