ঢাকায় একযোগে ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন, নাশকতার আশঙ্কা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৬ বার
ঢাকায় একযোগে ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন, নাশকতার আশঙ্কা

প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গতকাল সোমবার ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, মৌচাক, মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুরসহ অন্তত সাতটি এলাকায় এসব নাশকতার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, হামলাগুলো ছিল পূর্বপরিকল্পিত, সংগঠিত এবং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক নাশকতার অংশ।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভোর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত অন্তত এক ডজন বিস্ফোরণ এবং কয়েকটি অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ভোর পৌনে চারটার দিকে মিরপুর-২ নম্বর এলাকায় গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে প্রথম বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, ধানমন্ডির রোড ২৭ ও রোড ৯/এ, খিলগাঁও ফ্লাইওভার, মৌচাক মার্কেট, মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুর এলাকায় পরপর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। প্রতিটি ঘটনায়ই মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা দুর্বৃত্তদের জড়িত দেখা গেছে। তারা হামলার পর দ্রুত পালিয়ে যায়।

মেরুল বাড্ডা ও শাহজাদপুরে ভিক্টর পরিবহনের দুটি বাসে আগুন দেয় মুখোশধারী মোটরসাইকেল আরোহীরা। ভোর ৫টা ৪০ থেকে ৬টার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে বাস দুটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

ধানমন্ডির রোড ২৭ ও ৯/এ এলাকায় পরপর চারটি বিস্ফোরণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ধানমন্ডি থানার পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণগুলো পরিকল্পিতভাবে টহল পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটানো হয়, যেন নিরাপত্তা বাহিনীকে ভয় দেখানো যায়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র তালেবুর রহমান বলেন, “এই ধারাবাহিক হামলাগুলো একক কোনো ঘটনা নয়; বরং এটি রাজনৈতিক উত্তেজনা ঘিরে একটি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ। বিশেষ করে আগামী ১৩ নভেম্বরের রাজনৈতিক ঘটনাবলিকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা রয়েছে।” তিনি জানান, হামলাকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা সংস্থা ও সাইবার ইউনিট একসঙ্গে কাজ করছে।

এদিকে কাকরাইলের সেন্ট মেরি’স ক্যাথেড্রাল ও সেন্ট জোসেফ স্কুল প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণের ঘটনায় এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের সদস্য। ঘটনাটিকে “কাপুরুষোচিত হামলা” বলে অভিহিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তারা জানায়, চার্চে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে র‌্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে, এবং রাজধানীর সব উপাসনালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ট্র্যাকিং ও মোবাইল ডেটা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের টহল বাড়ানো হয়েছে। মসজিদ, চার্চ, মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা কয়েকগুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আগামী ১৩ নভেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সেটিই এই ধারাবাহিক হামলার পেছনে মূল কারণ হতে পারে। একাধিক সূত্র বলছে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠন ও তাদের সহযোগী গোষ্ঠীগুলো রায়কে কেন্দ্র করে সহিংসতা ছড়ানোর পরিকল্পনা করেছে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কিছুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে যারা পূর্বে দলীয় সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, “মোটরসাইকেলে হেলমেট পরিহিত ব্যক্তিরা পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এসব ঘটনায় একাধিক গোয়েন্দা ইউনিট তদন্ত করছে।”

রাজধানীজুড়ে নাশকতার এই ঢেউয়ের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সকালে অফিসগামী মানুষজন গণপরিবহনে ওঠার সময় দ্বিধায় ছিলেন। শহরের ব্যস্ত এলাকাগুলোয় টহলরত পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি প্রবেশপথে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “ভোরে ককটেলের শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। জানালা খুলে দেখি রাস্তায় ধোঁয়া। সবাই ভয়ে দৌড়াচ্ছে।” অন্যদিকে, দোকানপাট ও অফিস খোলার সময়ও ছিল এক ধরনের আতঙ্ক।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাগুলো শুধুমাত্র বিচ্ছিন্ন হামলা নয়, বরং একটি সমন্বিত রাজনৈতিক বার্তা। তারা বলছেন, রাজধানীতে এ ধরনের হামলা দেশের স্থিতিশীলতা নষ্ট করার চেষ্টা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে নিরাপত্তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ডিএমপির মুখপাত্র তালেবুর রহমান বলেন, “জনগণকে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আমাদের গোয়েন্দারা ২৪ ঘণ্টা নজরদারিতে আছে। এই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত