প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
আগামী ২১ নভেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি আবেদনের জন্য অনলাইন প্রক্রিয়া শুরু হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সূত্রে জানা যায়, এই প্রক্রিয়া চলবে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন স্কুলে ভর্তি আবেদন করতে পারবে। এবারও প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন হবে।
বিগত কয়েক বছর ধরে লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা হলেও অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা এবং আগ্রহ সবসময় বজায় থাকে। বিশেষ করে রাজধানীসহ বড় শহরের স্কুলগুলোতে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আগেভাগেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। মাউশি সূত্রে জানা যায়, লটারির মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সব স্কুলে স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো প্রকার পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ থাকে না।
মাউশির কেন্দ্রীয় পরিচালক অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, ‘আগের নীতিমালা অনুযায়ীই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। লটারির মাধ্যমে সকল আবেদনকারীর মধ্যে সুযোগ সমানভাবে বিতরণ করা হবে। আশা করা যাচ্ছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, এবারের ভর্তি প্রক্রিয়া যাতে স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এবারও ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বিস্তারিতভাবে ফি ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। এমপিওভুক্ত স্কুলে ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা, আংশিক এমপিওভুক্ত স্কুলে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা এবং ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফি সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মফস্বল এলাকার স্কুলে সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি সর্বমোট ৫০০ টাকার বেশি হতে পারবে না। উপজেলা ও পৌর এলাকায় সর্বোচ্চ ১ হাজার টাকা, আর মহানগর এলাকায় (ঢাকা ছাড়া) সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা নেওয়া যাবে।
অধ্যাপক সোহেল জানান, ‘ফি নির্ধারণ থাকা সত্ত্বেও কিছু নামি স্কুল অতিরিক্ত ফি আদায়ের চেষ্টা করে। এরকম অভিযোগ সুনির্দিষ্টভাবে পাওয়া গেলে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেব।’ তিনি অভিভাবকদেরও অনুরোধ করেছেন, যদি কোনো স্কুল অতিরিক্ত ফি দাবি করে, তা যেন মাউশিকে জানানো হয়।
এবারও ভর্তি প্রক্রিয়া অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। অভিভাবকরা নির্ধারিত সময়ে বিভিন্ন স্কুলে শিক্ষার্থীর তথ্য পূরণ করে আবেদন করবেন। মাউশি কেন্দ্রীয়ভাবে লটারি আয়োজন করবে এবং আগামী ১৪ ডিসেম্বর ফলাফল প্রকাশিত হবে। ফলাফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীরা তাদের নির্বাচিত স্কুলে ভর্তি হতে পারবেন।
ভর্তি প্রক্রিয়ার এই স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক। এতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ফি জমা দেওয়ার ঝামেলা কমে এবং কোনো প্রকার কাগজপত্রের জটিলতা থাকছে না। তবে অভিভাবকদের কাছে প্রক্রিয়াটি এখনও নতুন, তাই তারা প্রাথমিক সময়ে অনলাইনে আবেদন করার সময় কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। মাউশি জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের সহায়তার জন্য কল সেন্টার ও অনলাইন হেল্পডেস্ক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
মাউশি সূত্র জানায়, ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলার স্কুলেও একইভাবে ভর্তি কার্যক্রম চলবে। প্রতিটি স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীর বয়স, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং অন্যান্য মানদণ্ড যাচাই করা হবে। লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হলেও শিক্ষার্থীর তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করা আবশ্যক।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, লটারির মাধ্যমে ভর্তি প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের জন্য সুবিধাজনক। এটি স্কুলে প্রভাবশালী পরিবারের সন্তানের সুবিধা নিশ্চিত না হওয়ায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারও সুযোগ পায়। এছাড়া এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি করে এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।
এবারের প্রক্রিয়ায় অভিভাবকরা অনলাইনে আবেদন করার সময় বিশেষভাবে সাবধান হতে বলেছে মাউশি। ভুল তথ্য দিলে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল হতে পারে। এছাড়া অনলাইনে আবেদন করার জন্য সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে সার্ভার বেশি চাপের কারণে ধীর না হয়।
অধ্যাপক সোহেল আরও বলেন, ‘বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় এবং কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা না হয়, তার জন্য আমরা পর্যবেক্ষণ বাড়িয়েছি। অনলাইনের মাধ্যমে লটারি, ভর্তি ফি, এবং শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই সবকিছু কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।’
মাউশির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভর্তি কার্যক্রম ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এর ফলে নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা জানুয়ারি মাসের শুরুতে ক্লাসে অংশ নিতে পারবেন।
পাঠক ও অভিভাবকরা এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন যে, লটারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ হলেও, স্কুলের অতিরিক্ত চার্জ বা অননুমোদিত ফি আদায়ের ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনার প্রতি সজাগ থাকা উচিত।
এভাবে, আগামী ২১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া অনলাইন ভর্তি প্রক্রিয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন শিক্ষাবর্ষে সুযোগ নিশ্চিত করবে, এবং লটারির মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার্থী ও মধ্যবিত্ত পরিবারও উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তির সুযোগ পাবে।