প্রকাশ: ১১ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি (এনসিএসএ) একটি বিশেষ সেল গঠন করেছে, যা ভুল তথ্য, ভুয়া তথ্য ও গুজব প্রতিরোধের জন্য সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ, তথ্য যাচাই-বাছাই এবং সত্যতা নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব পালন করবে। এই বিশেষ সেলের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল মিডিয়া এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর ও মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব সোমবার রাতে ফেসবুক পোস্টে বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে বলেন, “জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি ইতিমধ্যে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা। দেশের সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখার দায়িত্ব সবার।”
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, বিশেষ সেলটি এনসিএসএর মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং, পিআইবি, বাসস, বিটিআরসি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ে কাজ করবে। এটি দেশের অনলাইন পরিবেশে তথ্যের প্রমাণ্যতা যাচাই, ভুল বা ভুয়া তথ্য শনাক্তকরণ এবং গুজব প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, “সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জনগণের দ্রুত সহায়তার জন্য এনসিএসএ ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন সেবা চালু রেখেছে। নাগরিকরা যদি কোনো অনলাইন অভিযোগ, গুজব, প্রতারণা বা হুমকির সম্মুখীন হন, তারা এই সেবা ব্যবহার করে তা রিপোর্ট করতে পারবেন।”
নাগরিকরা চারটি নির্দিষ্ট ই-মেইল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে অভিযোগ করতে পারবেন। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগ বা যোগাযোগের জন্য report_betting@ncsa.gov.bd; জাতীয়, ব্যক্তিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে গুজব, misinformation বা disinformation সংক্রান্ত অভিযোগের জন্য report_misinfo@ncsa.gov.bd; ফেইক প্রোফাইল, ছবি, অডিও-ভিডিও, অশ্লীল বা ক্ষতিকর কনটেন্টের মাধ্যমে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হয়রানি বা প্রতারণার অভিযোগের জন্য report_harassment@ncsa.gov.bd; এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো বা সাইবার হামলার অভিযোগের জন্য report_cii@ncsa.gov.bd এই ই-মেইল ব্যবহার করতে পারবেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “এই বিশেষ সেলটি দেশের নাগরিকদের তথ্য নিরাপদ রাখতে, মিথ্যা খবর ও গুজব প্রতিরোধ করতে, এবং ডিজিটাল গণমাধ্যমে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আমরা চাই জনগণ সচেতন হোক এবং অনলাইনে প্রাপ্ত যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য সরাসরি আমাদের কাছে পৌঁছে দিক।”
এনসিএসএর বিশেষ সেল কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধু নির্বাচনের সময়ই নয়, ভবিষ্যতে দেশের সাইবার নিরাপত্তার মান উন্নয়নেও সহায়তা করা হবে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সময়ে ভুয়া খবর, গুজব, মিথ্যা প্রচারণা বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিভ্রান্তিকর তথ্য যাতে ছড়িয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করা হবে।
এ বিষয়ে বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, “দেশের সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিকদেরও দায়িত্ব। তাই আমরা জনগণকে সচেতন করতে এবং সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”
এনসিএসএ ইতিমধ্যে অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া খবর শনাক্ত করতে অ্যালগরিদম ব্যবহার শুরু করেছে। তদুপরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে সঠিক তথ্য যাচাই এবং বিতরণের কার্যক্রমও বিশেষ সেলের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ রাখতে ডিজিটাল গুজব প্রতিরোধ একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ভোটার এবং সাধারণ জনগণ যাতে সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য এনসিএসএ’র এই বিশেষ সেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নাগরিকদের জন্য আরও বলা হয়েছে, তারা অনলাইন জুয়ার শিকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানি, গুজব বা অশ্লীল কনটেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যে কোনো অভিযোগ সরাসরি এনসিএসএ’র নির্দিষ্ট ই-মেইল অ্যাড্রেসের মাধ্যমে রিপোর্ট করতে পারবেন। এছাড়া জরুরি অবস্থায় সরাসরি হেল্পলাইনে কল করার মাধ্যমে তাত্ক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যাবে।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব উল্লেখ করেছেন, “বিশেষ সেলের মাধ্যমে আমরা নির্বাচনকালীন সময়ের জন্য ডিজিটাল মিডিয়ায় সঠিক ও বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছি। একই সঙ্গে, সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে জনগণও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। এই যৌথ প্রচেষ্টা দেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং জনগণের তথ্যাধিকারকে আরও দৃঢ় করবে।”
এভাবে, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সির বিশেষ সেল শুধুমাত্র গুজব প্রতিরোধের মাধ্যম নয়, এটি দেশের ডিজিটাল গণমাধ্যম এবং সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখার জন্য একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে।