সেনাপ্রধানের আহ্বান: আর্মি সার্ভিস কোর প্রস্তুত থাকুক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
সেনাপ্রধানের আহ্বান: আর্মি সার্ভিস কোর প্রস্তুত থাকুক

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রাণপুরুষ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার অটল স্তম্ভ হিসেবে আর্মি সার্ভিস কোর (এএসসি) দেশের সামরিক সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বুধবার (১২ নভেম্বর) খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসে আর্মি সার্ভিস কোরের ৪৪তম বার্ষিক অধিনায়ক সম্মেলনে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এক ঐতিহাসিক আহ্বান জানান। একবিংশ শতাব্দীর জটিল ও পরিবর্তনশীল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল শক্তি হল প্রশিক্ষিত, দায়িত্বশীল এবং প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম সৈন্য।

সেনাপ্রধান তার ভাষণে আর্মি সার্ভিস কোরের দীর্ঘমেয়াদী অবদানের প্রতি বিশেষভাবে স্বীকৃতি প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, “আর্মি সার্ভিস কোর বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল একটি অংশ, যারা প্রতিনিয়ত দেশ ও সেনাবাহিনীর সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আপনারা শুধু সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহে নয়, বরং মানুষের কল্যাণ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।” তিনি আরও বলেন, আধুনিক যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এএসসির সদস্যদের আরও শক্তিশালী হতে হবে।

ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

সেনাপ্রধানের আগমনের আগে জাহানাবাদ সেনানিবাসে তাকে স্বাগত জানান আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড (আর্টডক)-এর জিওসি, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, যশোর এরিয়া এবং কমান্ড্যান্ট, এএসসি সেন্টার অ্যান্ড স্কুল (এএসসিসিঅ্যান্ডএস)। অভ্যর্থনা অনুষ্ঠান শেষে সেনাপ্রধান আর্মি সার্ভিস কোরের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধক্ষেত্রে জয়ী হওয়ার জন্য কেবল কৌশল নয়, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং কার্যকর প্রশিক্ষণও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।”

সম্মেলনে সেনাপ্রধান এএসসি সদস্যদের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বলেন, “আজকের যুদ্ধক্ষেত্রে কেবল শক্তিশালী বাহিনীই নয়, আধুনিক প্রযুক্তি এবং দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই আর্মি সার্ভিস কোরকে সর্বদা উন্নত প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে সেনা এককের কার্যক্ষমতা সর্বোচ্চ থাকবে এবং যে কোনও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত থাকবে।”

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এএসসি সদস্যদের মধ্যে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একটি আধুনিক আর্মি সার্ভিস কোর শুধু সরঞ্জাম বহন করে না, বরং এটি গবেষণা, পরিকল্পনা এবং সর্বোচ্চ প্রযুক্তি ব্যবহার করে সামরিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করে। এজন্য প্রতিটি সদস্যকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। নতুন প্রযুক্তি দ্রুত গ্রহণ করা এবং অনুশীলন মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন।”

সম্মেলনে সেনাপ্রধানের নির্দেশনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় আর্মি সার্ভিস কোরের সদস্যদের আধুনিক প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া, নতুন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সংযোজন এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হবে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টহল ও সাপোর্ট মিশন পরিচালনার ক্ষেত্রে আর্মি সার্ভিস কোরের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে।

এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আর্টডকের জিওসি, বিএমটিএফের মহাপরিচালক, সেনাকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান, সেনাসদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কমান্ড্যান্ট এএসসিসিঅ্যান্ডএস এবং আর্মি সার্ভিস কোরের অধিনায়করা। সকলেই সম্মেলনে সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন এবং দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন।

সেনাপ্রধানের আহ্বান কেবল সৈন্যদের জন্য নয়, এটি দেশের নাগরিক এবং সরকারের জন্যও একটি বার্তা বহন করে। একটি দক্ষ, প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম এবং প্রস্তুত আর্মি সার্ভিস কোর দেশের স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। বিশেষ করে বর্তমানে আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনা করলে, দেশের প্রতিরক্ষা খাতকে সর্বদা প্রস্তুত রাখা কতটা জরুরি, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

সেনাবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আর্মি সার্ভিস কোরের প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর যে জোর দেওয়া হচ্ছে, তা শুধুমাত্র সামরিক বিজয় নিশ্চিত করবে না; এটি দেশের নাগরিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা, এবং জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তাদের দৃঢ় ধারণা, একটি সুসংগঠিত ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত আর্মি সার্ভিস কোর দেশের জন্য প্রতিকূল সময়েও সুরক্ষা এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

এদিকে, সম্মেলনের সমাপ্তিতে সেনাপ্রধান দেশের সকল আর্মি সার্ভিস কোর সদস্যকে নির্দেশ দেন, তারা যেন সর্বদা সতর্ক, দায়িত্বশীল এবং পেশাগতভাবে প্রস্তুত থাকে। তিনি বলেন, “আপনারা শুধু সেনা নয়; আপনি দেশের শক্তি, দেশপ্রেম এবং দায়বদ্ধতার প্রতীক। ভবিষ্যতের যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনারা সর্বদা প্রস্তুত থাকবেন।”

সেনাপ্রধানের এই আহ্বান কেবল একটি সামরিক বার্তা নয়; এটি দেশের সামরিক শক্তি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং নাগরিক সুরক্ষার ওপর একটি স্পষ্ট প্রভাব বিস্তার করছে। আর্মি সার্ভিস কোরের সদস্যরা এই আহ্বানকে শুধু শোনেননি, বরং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকারও করেছেন। এটি প্রতিফলিত করে দেশের প্রতিরক্ষা খাত কতটা প্রস্তুত, সক্ষম এবং জবাবদিহিমূলক।

সেনাপ্রধানের বক্তৃতা দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে উপস্থাপন করেছে। একদিকে দেশের নাগরিকদের জন্য শান্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার জন্য আর্মি সার্ভিস কোরের প্রস্তুতির গুরুত্ব নতুনভাবে পুনঃস্থাপিত হয়েছে।

সর্বশেষে, এই সম্মেলন শুধুমাত্র একটি বার্ষিক আয়োজন নয়, বরং এটি দেশের প্রতিরক্ষা খাতের দক্ষতা, নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা এবং আর্মি সার্ভিস কোরের ভবিষ্যত পরিকল্পনা প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করেছে। সেনাপ্রধানের আহ্বান এবং নির্দেশনা দেশের সকল আর্মি সার্ভিস কোর সদস্যের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা এবং দায়িত্ববোধ সঞ্চার করেছে, যা দেশের নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত