বিএনপি‑জামায়াতের বিভাজন সুযোগ দিচ্ছে আ. লীগকে মাঠে আসতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
বিএনপি‑জামায়াতের বিভাজন সুযোগ দিচ্ছে আ. লীগকে মাঠে

প্রকাশ: ১৩ নভেম্বর ২০২৫ বৃহস্পতিবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের বিভাজনের কারণে আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর রূপায়ন টাওয়ারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ যদি ড. মুহাম্মদ ইউনুস জারি না করেন, তাহলে ভবিষ্যতে সেই সনদের কোনো নৈতিক ভিত্তি থাকবে না। তিনি আরও বলেন, এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশ্বাসের ওপরও প্রভাব ফেলে।

সভায় এনসিপির যুগ্ম আহবায়ক সরোয়ার তুষার উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ প্রধান উপদেষ্টাকেই জারি করতে হবে। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি জারি করলে সনদ কার্যত কুলখানি ছাড়া আর কোনও উপায় থাকবে না। সনদ বাস্তবায়নের যথাযথ প্রক্রিয়া না হলে তা জনগণ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণকারীদের বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে না।”

শেখ হাসিনার মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের লকডাউন কর্মসূচি নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। সরোয়ার তুষার বলেন, এনসিপির নেতাকর্মীরা লক্ষ্য করেছেন, সরকার সমর্থিত আওয়ামী লীগ এই লকডাউন কার্যক্রমকে ‘লীগডাউন’-এ রূপান্তরিত করেছে। এতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং মাঠে অবস্থান বাড়ানোর সুযোগ আওয়ামী লীগ পাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি-জামায়াতের বিভাজন বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগকে সুবিধা দিচ্ছে এবং তারা জনগণের দৃষ্টিতে সক্রিয়ভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারছে। নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সরোয়ার তুষারের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই সনদের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সক্রিয় পদক্ষেপ অপরিহার্য, নতুবা রাজনৈতিক ও নৈতিকভাবে সনদ শূন্যপ্রভাবিত হবে।

এনসিপি নেতাদের এই মন্তব্য প্রকাশ করছে যে, রাজনৈতিক কাঠামো ও সংবিধান অনুযায়ী নিয়মিত পদক্ষেপ না নিলে সরকারের পদক্ষেপ, ক্ষমতা ও কার্যক্রম জনমতের সঙ্গে খাপ খাবে না। তারা আশঙ্কা করছেন, চলমান রাজনৈতিক বিভাজন ও বিচ্ছিন্নতা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং আওয়ামী লীগকে মাঠে সক্রিয়ভাবে সুযোগ দিতে পারে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ধরনের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। নীতি, নৈতিকতা ও প্রক্রিয়ার সংমিশ্রণে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো, রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের অবস্থান ও দায়িত্ব বোঝা এবং জনগণের আস্থা বজায় রাখা। এনসিপির নেতারা এই বাস্তবতা তুলে ধরছেন, যেখানে সনদ বাস্তবায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের প্রভাব রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সামাজিক বিশ্বাসের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত।

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এটি দেখাচ্ছে যে রাজনৈতিক বিভাজন কেবল দলীয় নয়, বরং তা কার্যত দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করছে। এনসিপি নেতারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নৈতিক ও কার্যকর প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাত্রেই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিশ্বাস অর্জন সম্ভব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত