বন্ধুর সহযোগিতায় পরিকল্পিত হত্যা, খণ্ডিত লাশ মিলল রাজধানীতে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৬ বার
বন্ধুর সহযোগিতায় পরিকল্পিত হত্যা, খণ্ডিত লাশ মিলল রাজধানীতে

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকা শহরের হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় দুটি নীল রঙের ড্রামে ২৬ টুকরা খণ্ডিত মরদেহ পাওয়া গেছে। নিহতের পরিচয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশ্লেষণের মাধ্যমে আশরাফুল হক (৪৩) হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর নয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তার বাবা মো: আব্দুর রশিদ এবং মা এছরা বেগম। নিহতের স্ত্রী লাকি বেগম ও দুই শিশু সন্তান—আব্দুল্লাহ (৭) ও আসফি (১০)—কে রেখে গেছেন।

আশরাফুল হক একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী হিসেবে দেশজুড়ে পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, আলু সহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করতেন। তার ভগ্নিপতি আনজিরা বেগমের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আশরাফুল হক ১১ নভেম্বর রাতে ঢাকায় আসেন তার বন্ধুর সঙ্গে। এরপর থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারে সন্দেহ, বন্ধু ‘জরেজ’ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহযোগিতায় আশরাফুলকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। হত্যার পর তার লাশ মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ২৬ খণ্ডে ভাগ করে দুটি ড্রামে ভরে ঢাকা শহরের জাতীয় ঈদগাহ সংলগ্ন ফুটপাথে ফেলে দেয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ড্রাম দুটি দুটি ভ্যান গাড়িতে এনে দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে ফেলে রাখা হয়। সন্ধ্যার দিকে দুর্গন্ধের কারণে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক মজিবুল আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি ড্রাম খোলার পর কালো পলিথিনে মোড়ানো লাশের খণ্ড অংশ উদ্ধার করেন। লাশের মুখে লম্বা দাড়ি ছিল এবং প্রতিটি অঙ্গ আলাদা করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে লাশকে ২৬ অংশে ভাগ করে রাখা হয়েছে। সিআইডি’র ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে কাজ শুরু করেছে। তারা লাশের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করেছেন এবং দ্রুত তদন্তে নেমেছেন।

পরিবারের অভিযোগ, আশরাফুল হকের ব্যবসায়িক লেনদেন এবং নিখোঁজ বন্ধু জরেজের সঙ্গে কোনও সমস্যা এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকতে পারে। জাকির নামের একজন আত্মীয় জানান, আশরাফুল হক নারায়ণগঞ্জে টাকা আদায়ের জন্য যাওয়ার সময় জরেজের সঙ্গে ছিলেন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকে। পুলিশের ধারণা, হত্যার পেছনে পূর্বপরিকল্পনা ও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা থাকতে পারে।

নিহতের ভগ্নিপতি ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের পরও দুষ্কৃতকারীদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আলম জানান, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

ময়নাতদন্তের পর আশা করা হচ্ছে হত্যার সঠিক কারণ ও সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে। শহরের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড জনগণের মধ্যে গভীর শোক এবং নিরাপত্তা সংকটের বোধ জাগিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের গ্রেপ্তারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে রাজধানীর মানুষ এখনও উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠায় রয়েছে।

এই ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, আশরাফুল হকের হত্যার পেছনে ব্যবসায়িক লেনদেন, নিখোঁজ বন্ধুর সম্পর্ক এবং নৃশংস পরিকল্পনার সংযোগ থাকতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সকল প্রমাণ এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে চাইছে। এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি হত্যার ঘটনা নয়, শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্যও একটি গভীর সতর্কবার্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত