প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় নববিবাহিত যুবক আবু বক্কর প্রকাশ আসিফ (২৬) গত শুক্রবার সকালে ঢাকার পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে জানা গেছে, স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুইটির সাবেক প্রেমিক রাব্বি প্রকাশ বাপ্পি এবং পারভেজ নামে দু’জন যুবক গত ৮ নভেম্বর শ্বশুরালয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে।
নিহত আসিফ কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কেন্ডা গ্রামের মরহুম ফটিক মিয়ার ছেলে। মৃত্যুর আগে সে সম্প্রতি সৌদি আরব থেকে দেশে ছুটিতে আসেন। তার ছোট ভাই আরাফাত হোসেন জানান, গত ২৭ অক্টোবর আসিফ তার দীর্ঘদিনের প্রেমিকা সুমাইয়া আক্তার সুইটিকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। বিয়ের পর নববিবাহিত দম্পতি শ্বশুরালয়ে বেড়াতে যান।
আশঙ্কাজনক ঘটনায় বলা হচ্ছে, আবদুল্লাহপুর এলাকায় আসিফ ও তার শ্যালক শান্ত শ্বশুরালয়ের পথে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ পথের পাশে ওঁৎপেতে থাকা রাব্বি প্রকাশ বাপ্পি ও পারভেজ ধারালো অস্ত্র দিয়ে আসিফের শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে দ্রুত সদর দক্ষিণ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পিজি হাসপাতালে নেওয়া হলে শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, এই হত্যাকাণ্ডে আসিফের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুইটির সাবেক প্রেমিকের সরাসরি জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আরাফাত হোসেন আরও জানান, মৃত্যুর আগে তার ভাই সৌদি আরবে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরে বিয়ের পর শ্বশুরালয়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন। ঘটনা পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে বলে পরিবারের ধারণা। তারা চাইছেন, দায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।
অন্যদিকে, সুমাইয়া আক্তার সুইটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দাবি করেছেন, তার মেয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত নন। তিনি বলেন, বিয়ের আগে তার মেয়ে কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রাখেনি এবং মোবাইলও ব্যবহার করতেন না। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, পুলিশের দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হবে এবং হত্যাকারীরা শাস্তি পাবে।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সেলিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার দিন অভিযুক্তরা আসিফের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে তাকে ছুরিকাঘাত করে। ৮ নভেম্বর রাতেই পুলিশের কাছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এছাড়া পুলিশ এখনও নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি, স্ত্রী সুইটির কোনো ভূমিকা ছিল কি না। মামলাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
নিহতের মৃত্যু সংবাদে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা আশ্বস্ত হতে চাইছেন যে, পুলিশ দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি এই ঘটনায় সামাজিক ও মানবিক দিক থেকে পরিবার ও এলাকার মানুষের নিরাপত্তার গুরুত্বকেও বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় এবং হত্যার পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হত্যার পিছনে পূর্ব পরিকল্পনা, ঝামেলা, দাম্পত্য সম্পর্কের জটিলতা এবং পারিবারিক পরিস্থিতি সবকিছু বিবেচনা করে কার্যকরী তদন্ত চলছে। আশা করা হচ্ছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের পরিচয় দ্রুত প্রকাশ পাবে।
নিহত আসিফ স্ত্রী ও দুই মাস বয়সী নতুন দম্পতির জীবন থেকে হঠাৎ চলে যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমেছে। পরিবার এবং এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও আইনানুগ শাস্তি দাবি করছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন নৃশংস ঘটনা আর না ঘটে।