প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০২৫ শুক্রবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে দিনাজপুর-৩ আসনে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা আজ শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে। জুমআর নামাজের পর জেলা শহরের কবরস্থানে তার বাবা-মা ও বড়বোন সাবেক মন্ত্রী খুরশিদ জাহান হকের কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচারণার উদ্বোধন করা হয়। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জাল হোসেন দুলাল, সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কবর জিয়ারতের পর বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়, যেখানে নেতাকর্মীরা ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতীক সহ ভোট চেয়ে লিফলেট বিতরণ করেন। এটি দিনাজপুরের ৬টি আসনের মধ্যে সদর-৩ আসনে তার প্রথমবারের মতো নির্বাচনী অংশগ্রহণ। এর আগে তার বড়বোন খুরশিদ জাহান হক পরপর দুইবার এই আসন থেকে নির্বাচন করে জয়ী হয়েছেন। এ কারণে সদর-৩ আসনটি বিএনপির জন্য ঐতিহাসিক ও প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে।
নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণা কেবল ভোটারদের কাছে তার রাজনৈতিক দর্শন পৌঁছে দেওয়ার জন্য নয়, বরং তার নেতৃত্বে দেশের গণতান্ত্রিক ও ন্যায্য নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি প্রকাশের একটি মাধ্যম। জেলা বিএনপির বিভিন্ন শাখা থেকে বহু নেতা ও কর্মী এ প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছেন। তারা ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে, এলাকার মানুষের সমস্যা ও দাবিগুলো তুলে ধরছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার জন্য এই প্রচারণা স্থানীয় রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, প্রচারণার মধ্যে রয়েছে নির্বাচনী সভা, ভোটার সঙ্গে সরাসরি আলাপ, লিফলেট বিতরণ এবং প্রতীকী কার্যক্রম। দল মনে করে, এই প্রচারণার মাধ্যমে তারা ভোটারদের মধ্যে নিজের প্রতীক এবং রাজনৈতিক কার্যক্রমের গুরুত্বের বার্তা পৌঁছে দিতে পারবে।
এছাড়া, জেলার বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীরা গ্রামের মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে তাদের কাছে ভোটের গুরুত্ব এবং ধানের শীষ প্রতীকের অর্থ বোঝানোর চেষ্টা করছেন। জেলা বিএনপির এক কর্মকর্তা জানান, প্রচারণার লক্ষ্য ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, তাদের ভোটের অধিকার সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করা এবং প্রার্থী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সহায়তা প্রদান।
প্রার্থী হিসেবে বেগম খালেদা জিয়া কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সমর্থন পেয়ে প্রচারণায় নেমেছেন। তার উপস্থিতি স্থানীয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং উৎসাহ বৃদ্ধি করেছে। জেলা বিএনপির নেতা মোফাজ্জাল হোসেন দুলাল বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সদর-৩ আসনে আমাদের নেত্রী ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করবেন এবং ভোটাররা তার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।”
দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতৃত্ব নির্বাচনী প্রচারণা শক্তিশালী করতে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন। নেতৃবৃন্দ গ্রামে গ্রামে গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করছেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন এবং ভোট দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করছেন। এছাড়া, নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালীন সময়ে সামাজিক ও মানবিক দায়বদ্ধতার বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
বৃহত্তর রাজনীতিতে সদর-৩ আসনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এই আসনটি বিএনপির প্রভাবশালী এবং ঐতিহাসিক আসন হিসেবে পরিচিত। জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারণা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে এবং ভোটাররা স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। নেতারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে এবং ভোটাররা দেশের জন্য সঠিক নির্বাচনী সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন।
এদিকে, সদর-৩ আসনের নির্বাচনী প্রচারণা শুধু ভোট চাইতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের রূপ নেবে। নেতা-কর্মীরা ভোটারদের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি, রাজনৈতিক আদর্শ এবং দেশের জন্য তার পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। প্রচারণার সময় জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা হবে এবং ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বুধবার দলের কেন্দ্রীয় বৈঠকের পর এ নির্বাচনী প্রচারণা ঘোষণা করা হয়। জেলা বিএনপি সূত্র জানায়, এ প্রচারণা আগামী কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে। এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হলো ভোটারদের মধ্যে প্রার্থীর ওপর আস্থা বৃদ্ধি করা, নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের সচেতন করা এবং আগামী নির্বাচনে সফল হওয়ার জন্য রাজনৈতিক সমর্থন তৈরি করা।
নাটোরের মতো অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায়ও বিএনপির নেতারা একইভাবে প্রচারণা শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মতে, এই প্রচারণার মাধ্যমে তারা নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবেন এবং ভোটারদের মধ্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবেন। নির্বাচনী প্রচারণার মাধ্যমে দলের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভোটারদের কাছে বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে।
সর্বশেষ, জেলা বিএনপি মনে করছে, সদর-৩ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার প্রচারণা শুধু একটি ভোট আহ্বান নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক শক্তিকে সক্রিয় করার একটি প্রক্রিয়া। ভোটাররা নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ এবং উন্নয়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেবেন। জেলা বিএনপি নেতারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, নির্বাচনী প্রচারণার সাফল্য ভোটারদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া এবং সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রতিফলিত হবে।
এভাবে দিনাজপুর-৩ আসনে বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটারদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।