জাতিসংঘে একলোভীন সমর্থনে গৃহীত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রস্তাব

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২১ বার
জাতিসংঘ রোহিঙ্গা সমাধান প্রস্তাব

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি বুধবার একগুচ্ছ সমর্থন নিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ন্যায্য প্রত্যাবাসন ও টেকসই সমাধান প্রস্তাব পাস করেছে। এই প্রস্তাবটি যৌথভাবে উত্থাপন করেছে অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), এবং এতে মোট ১০৫টি দেশ সমর্থন স্বীকার করেছে।

প্রত্যাবর্তনের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছাস্বীকৃত এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পথ তৈরি করা। প্রস্তাবে বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে যে বৈশ্বিক সম্প্রদায় যুক্ত হয়ে এমন কর্মসূচি গড়ে তুলুক যা তাদের জীবন ও অধিকার পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।

চট্টগ্রামে জমায়েতকৃত বাংলাদেশ प्रतिनिधিদল গ্রন্থে সদস্য দেশগুলোর সহায়তা ও সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছে। তবে তারা একই সঙ্গে হতাশাও প্রকাশ করেছে কারণ গত আট বছরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।

বাংলাদেশী প্রতিনিধি দল স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে বর্তমানে দেশটি ইতিমধ্যেই প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিচ্ছে, এবং এ বোঝা ভবিষ্যতে বহন করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই তারা তাদের মাতৃভূমিতে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জরুরি আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তুলেছে।

প্রস্তাবের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আগামী বছরের মধ্যে একটি উচ্চ-স্তরের কোণফারেন্স আয়োজন করার সিদ্ধান্ত। এতে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দেশকে একসাথে বসাতে হবে এবং একটি “নির্দিষ্ট সময়সীমায় বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা” তৈরি করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন সম্ভব হয়।

এছাড়া, প্রস্তাবে আরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে রাখাইন রাজ্যে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলোতে নজর দিতে। বিশেষ করে সেখানে ব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার, স্থায়ী নিরাপত্তাবিহীনতা এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের দৃষ্টান্তগুলি বারবার উঠে এসেছে।

প্রতিবিধানে বলা হয়েছে, শুধু প্রত্যাবাসনই নয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রত্তায়ের সক্রিয় অংশীদারি আবশ্যক। এর জন্য দায়িত্ব রয়েছে রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দাতাবান্ধব দেশগুলোর। নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের পরিবেশ তৈরি করতে হলে কেবল পরিকল্পনাই যথেষ্ট হবে না—তার বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণও জরুরি হবে।

বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের বক্তব্যে বিশেষ আক্ষেপ প্রকাশ করা হয় যে সর্বাধিক আন্তর্জাতিক সহানুভূতির মধ্যেও টেকসই সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে যে দীর্ঘস্থায়ী বৈরীতা ও সীমাবদ্ধতা থাকায় রোহিঙ্গাদের ফেরানো আজও স্বপ্ন হিসেবে প্রতীয়মান।

এ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক মনোযোগ রোহিঙ্গা সংকটে নতুন মাত্রা পাচ্ছে। বাংলাদেশের আহ্বান এখন আন্তর্জাতিক কমিউনিটির কাছে একটা স্পষ্ট বার্তা বহন করছে: যতদিনই সমাধান না আসে, ততদিন রোহিঙ্গারা শুধু আশ্রয়প্রার্থী নয়, তারা একটি মানবাধিকার ও ন্যায্যতা প্রত্যাশী জনগোষ্ঠী।

তবে প্রশ্ন এখনও বাকি আছে — এই বছরের রেজুলিউশন কি শুধুই প্রতিশ্রুতি হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বাস্তব পরিবর্তনে পরিণত হবে? প্রস্তাবনায় উল্লিখিত “কনক্রিট ও সময়সীমাসম্পন্ন পরিকল্পনা” কি সত্যিই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে? এবং সর্বোপরি, মিয়ানমার কি এমন পরিস্থিতি গড়াবে যেখানে রোহিঙ্গারা মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পারে?

বিশ্ব সম্প্রদায়ের সাড়া এবং বাস্তব পদক্ষেপের উপর এখন নির্ভর করছে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যৎ এবং বাংলাদেশের বোঝা ভাগাভাগি করার সামর্থ্য। এই প্রস্তাব গৃহীত হওয়াটা একটি নতুন সূচনা—কিন্তু সূচনা মাত্র; এখন কাজ শুরু করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত