খুলনা-গামী চিত্রা এক্সপ্রেসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, হতাহত হয়নি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬১ বার

প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

ঢাকা থেকে খুলনা গামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনে বুধবার (১৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ও রাতের দিকে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। সিরাজগঞ্জ জেলার কামারখন্দ উপজেলার জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনের কোবাদ শেখ মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী বা রেলকর্মী আহত হয়নি। ট্রেনের ইঞ্জিনের পাশে পেট্রলবোমা পড়ে ক্ষুদ্র ক্ষতি হয়েছে।

জামতৈল রেলওয়ে স্টেশনমাস্টার আবু হান্নান জানিয়েছেন, “গতকাল রাত ১০টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করা হয়।幸যদিও ট্রেনের ইঞ্জিনের কিছু ক্ষতি হয়েছে, তবে যাত্রীদের কোনো ধরনের আঘাত ঘটেনি। এখনো আমরা নিশ্চিত নই, কে এই হামলা চালিয়েছে।”

সিরাজগঞ্জ বাজার রেলওয়ে পুলিশের (ওসি) দুলাল উদ্দিন বলেন, “পেট্রলবোমাটি ছোট একটি ন্যাকড়ার মতো আকারের ছিল। এতে আগুনের ছিটে পড়ে ইঞ্জিনের পাশে ফাঁকা স্থানে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেহেতু এতে কোনো ব্যক্তি বা যানবাহনে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি, তাই মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। তবে ঘটনার তদন্ত চলছে এবং হামলাকারীদের সনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়দের ধারনা, এ ধরনের হামলা যাত্রীদের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর বিপদের কারণ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আহত না হওয়ায় ঘটনাটি বড় ধরনের দুর্ঘটনায় রূপ নেয়নি। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রেনটি নিয়মিত গতি বজায় রেখে খুলনা পৌঁছেছে।

চিত্রা এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে খুলনার মধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রুটে চলাচল করে। এটি যাত্রীদের জন্য সময়নিষ্ঠ ও জনপ্রিয় পরিবহন ব্যবস্থা হিসেবে পরিচিত। ট্রেনে হামলা করার ঘটনা নেটিজেন ও স্থানীয় মানুষদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করছেন, এটি যাত্রীসুরক্ষা ও রেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, হামলাকারীরা রেলওয়ের কাছে অপেক্ষা করে ট্রেনের ইঞ্জিন লক্ষ্য করে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করেছে।幸দুর্ভাগ্যবশত, পেট্রলবোমার আগুন বিস্তৃত হয়নি, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করেছে। রেলওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, ভবিষ্যতে এমন হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে স্টেশনের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে।

স্থানীয় যাত্রী ও রেলকর্মীরা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা যাত্রাপথে মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাতের সময়ে ট্রেন চলাচলের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্টেশনে সিসিটিভি ক্যামেরা, আলো ও পেট্রোলিং জোরদার করা হবে যাতে হামলাকারীরা দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করা যায়।

এই ঘটনায় দেশের যাত্রী পরিবহন ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল বিষয়গুলো সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু নিরাপত্তা কর্মী বাড়ানো নয়, স্টেশন ও রেলপথের চারপাশে নজরদারি বাড়ানোও জরুরি। এতে করে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঝুঁকি কমবে।

চিত্রা এক্সপ্রেসের যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ট্রেনের অবকাঠামো রক্ষা করতে রেলওয়ে কর্মকর্তারা নিয়মিত টহল চালাচ্ছেন। তবে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়েছে।

ঘটনাস্থল ও আশেপাশের এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও রেল পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তারা জানিয়েছেন, যাত্রীদের উদ্বেগ না করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

তথ্য ও অনুসন্ধান অনুযায়ী, চিত্রা এক্সপ্রেসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপের ঘটনায় কেউ আহত না হওয়ায় মামলা করা হয়নি। তবে রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসন হামলাকারীদের শনাক্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী। এ ঘটনা দেশের রেলপথ নিরাপত্তা ও যাত্রী নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত