জামায়াতে ইসলামীর নেতারা সমাবেশে বললেন অন্যায় ফাঁসির বিচার হবে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২২ বার

প্রকাশ: ২১ নভেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ জামায়াত অফিস চত্বরে নির্বাচনি দায়িত্বশীল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের পরিচালক মাওলানা আবদুল হালিম। তিনি সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনের সময় জামায়াত নেতাদের বিরুদ্ধে নির্যাতন, জুলুম, গুম ও অন্যায় ফাঁসির ঘটনা উদ্দীপ্তভাবে তুলে ধরেন।

মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, “অন্যায়, জুলুম, নির্যাতন, গুম বা খুন করে কেউ টিকতে পারে না এবং কেউ টিকেও নেই। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার মনে করেছিল, ফাঁসি, অন্যায়, জুলুম ও গুমের মাধ্যমে জামায়াতকে দমন করা যাবে। কিন্তু জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর যে অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে, তা বরাবরের মতোই ব্যর্থ হয়েছে। বরং এতে নেতাকর্মীদের ইমান আরও শক্তিশালী হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ৭০ জন হাফেজ এবং ৪০০ জন আলেম জীবন দিয়েছেন। জামায়াত নেতাদের আইন করে অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সাহেবকেও জুলুমের মাধ্যমে বিদায় দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রতিশোধ গ্রহণের চিন্তা করি না। তবে বাংলাদেশের সংসদে ইসলামী নেতৃত্ব পাঠিয়ে এ জুলুমের বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

সমাবেশে মাওলানা আবদুল হালিম ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কর্মসূচিও ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “২৪ গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি, বৈষম্য ও টাকা পাচারের বিরুদ্ধে জনগণ এখন সচেতন। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের বিরুদ্ধে এবং দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় জনগণ আগামীতে জামায়াতের প্রয়োজন বোধ করছে। দেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর মধ্যেও জামায়াতের সুর শক্তিশালী হয়েছে। তাই নেতাকর্মীরা ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন।”

তিনি সমাবেশে শিক্ষার্থী ও যুবকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, “যেখানে আগে কেন্দ্রীয়, মহানগর, জেলা ও উপজেলা অফিসে ঢুকতে পারতাম না, এখন পুরো বাংলাদেশ জামায়াতের জন্য উন্মুক্ত। তাই বসে থাকা চলবে না। ঘরে ঘরে, গ্রামে গ্রামে কমিটি গঠন করুন এবং ভোটের দিনে মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নিন। আগামীর বাংলাদেশ হবে ইসলামের বাংলাদেশ।”

সমাবেশে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বক্তারা ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সৈয়দপুর উপজেলা আমির হাফেজ মাওলানা আবদুল মুনতাকিম, নীলফামারী জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. খাইরুল আনাম, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাদ্দিস ড. এনামুল হক, নীলফামারী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আন্তাজুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র শিবির রংপুর মহানগরের সভাপতি নুরুল হুদা, কিশোরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আক্তারুজ্জামান বাদল এবং অন্যান্য দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহর সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ফেরদৌস আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ৪৬০ জন দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে নেতারা ভোটের প্রস্তুতি, কমিটি গঠন এবং মাঠে সক্রিয় থাকার ওপর জোর দেন।

মাওলানা আবদুল হালিমের বক্তব্যে বিশেষভাবে বলা হয়, ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনের সময় ঘরে বসে থাকার অধিকারও দেওয়া হয়নি। এমনকি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়াতেও বাধা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে নেতাকর্মীদের ইমান ও দৃঢ়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সমাবেশে বক্তৃতা দিয়ে রাজনৈতিক সচেতনতা ও ভোটের গুরুত্বের ওপর জোর দেন এবং আগামী নির্বাচনে সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

জামায়াত নেতারা সমাবেশে একসময়ের শোষণ ও অন্যায়ের চিত্র তুলে ধরে বলেন, জনগণের সমর্থন ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা ছাড়া দেশের পরিস্থিতি পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই তাঁরা ভোটের মাঠে সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন এবং দেশের ভেতর থেকে শক্তিশালী ইসলামী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করবেন।

সমাবেশে নেতারা নিশ্চিত করেছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী জামায়াতের নেতা ও কর্মীরা স্বাধীনভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কাজ করতে সক্ষম হবেন। তাঁরা ভোটের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন অর্জন করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত