খালেদা জিয়ার হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ, হাসপাতালে ভর্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৫৮ বার
খালেদা জিয়া

প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ সোমবার । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার হার্ট ও ফুসফুসে ইনফেকশন শনাক্ত হওয়ায় তাকে ২৪ ঘণ্টার নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শনিবার রাতে হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী গণমাধ্যমকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অধ্যাপক সিদ্দিকী জানান, গত কয়েক মাস ধরে খালেদা জিয়া ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন। এই সময় তার হার্টের সমস্যা, মাইট্রোস্টেনোসিস এবং সাম্প্রতিক চেস্ট ইনফেকশন একসঙ্গে দেখা দেয়। এর ফলে তার রেসপিরেটরি সিস্টেমে জটিলতা দেখা দেয়, এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার হার্টে পূর্বে পেস-মেকার বসানো হয়েছে এবং স্টেন্টিং করা হয়েছিল। এখন চেস্ট ইনফেকশনের কারণে হার্ট ও ফুসফুস—উভয়ই একই সঙ্গে আক্রান্ত হয়েছে।

হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। মেডিকেল বোর্ডের প্রাথমিক রিপোর্ট পর্যালোচনা করে তাকে তাৎক্ষণিক অ্যান্টিবায়োটিকসহ জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। অধ্যাপক সিদ্দিকী জানান, আগামী ১২ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আরও কিছু রিপোর্ট আসার পর তার চিকিৎসা পরিকল্পনা আপডেট করা হবে। বর্তমানে খালেদা জিয়া কেবিনে আছেন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

রোববার রাত ৮টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। পরে তার সভাপতিত্বে মেডিকেল বোর্ডে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকীসহ দেশি ও বিদেশি একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। লন্ডন থেকে ডা. জুবাইদা রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরাও ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন এবং রোগীর চিকিৎসার পরামর্শ দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলের সদস্য অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, ম্যাডামের চিকিৎসা সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রেখে চলছে। আপাতত অত্যধিক উৎকণ্ঠার পরিস্থিতি নেই, তবে আগামী ১২ ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। মেডিকেল বোর্ড পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য পুনরায় বসবে।

খালেদা জিয়ার আত্মীয়রা সার্বক্ষণিক হাসপাতালে উপস্থিত রয়েছেন। লন্ডন থেকে তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শামিলা রহমানও হাসপাতালে উপস্থিত আছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরাও নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিএনপি নেতারা জানান, খালেদা জিয়া দেশের জনগণের কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছেন, যার মধ্যে রয়েছে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস এবং চোখের সমস্যা। গত ৭ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনি লন্ডনে যান এবং ১১৭ দিন চিকিৎসা শেষে ৬ মে দেশে ফিরে আসেন। বর্তমান সময়ে হার্ট ও ফুসফুসে সংক্রমণ যুক্ত হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা জরুরি পর্যবেক্ষণের অধীনে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসাবিদরা মনে করছেন, খালেদা জিয়ার বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি এবং দ্রুত তদারকির কারণে তার সুস্থতার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশব্যাপী রাজনৈতিক নেতারা এবং সাধারণ জনগণ দোয়া ও শুভকামনা জানিয়েছেন। খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও স্থিতিশীলতা পুরো বাংলাদেশ এবং রাজনৈতিক মহলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই পরিস্থিতি কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নয়, একজন দেশের নেত্রী হিসেবে তার গুরুত্বকে আরও বিশেষভাবে তুলে ধরে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং বিশেষজ্ঞদের সমন্বিত চিকিৎসার মাধ্যমে তার জীবন রক্ষা ও সুস্থতার সম্ভাবনা বেশি। দেশের মানুষও তার সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন এবং রাজনৈতিক নেতারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত