সর্বশেষ :
২০২৬ বিশ্বকাপে বড় পরিবর্তন, ফুটবল টুর্নামেন্টে নতুন যুগের ইঙ্গিত সোমালি রেফারিকে ঢুকতে না দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইয়ান রাইট ২০২৬ বিশ্বকাপ: গোল্ডেন বুটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? মিরসরাইয়ে নিখোঁজ তিন কিশোর উদ্ধার, স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে মেলান্দহে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু চিরিরবন্দরে ৩ মাদকসেবীকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কারাদণ্ড ১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার, বাজার স্থিতিশীলতায় উদ্যোগ প্রশাসনিক কাজে জবাবদিহি নিশ্চিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর মে মাসে বিজিবির অভিযানে ১৭৭ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ, সীমান্তে কড়াকড়ি জোরদার ৭৯ হাজার ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ নিয়ে নতুন বিতর্ক, যাচাই প্রক্রিয়া ঘিরে আলোচনা

ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধ: শান্তি চুক্তির খুব কাছে ট্রাম্পের প্রশাসন

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৪৫ বার
ট্রাম্পের ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় আবেদন স্থগিত রাখতে পারেন বছরের পর বছর

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে ঘোষণা দিয়েছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধে শান্তি চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে তার প্রশাসন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ করা সহজ নয়, তবে আলোচনার অগ্রগতি এবং সংশোধিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে চূড়ান্ত চুক্তি খুব সম্ভবপর বলে তিনি আশাবাদী।

ট্রাম্প বলেন, “গত ৯ মাসে আমি আটটি যুদ্ধ শেষ করেছি। এখন আমরা শেষ যুদ্ধ নিয়ে কাজ করছি। এটা সহজ নয়, তবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমরা একটি চুক্তিতে পৌঁছাবো।” তিনি আরও যোগ করেন, “আমি মনে করি আমরা খুব কাছাকাছি। দেখা যাক কি হয়। আমি ভেবেছিলাম এটি সহজ হবে। তবে আমরা এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি করেছি।”

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, “কিছু সংবেদনশীল বিষয় এখনও মীমাংসার অপেক্ষায় রয়েছে। ইউক্রেন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও আলোচনা প্রয়োজন।” বিষয়গুলো মূলত সীমান্ত, নিরাপত্তা গ্যারান্টি এবং রাশিয়ার ভূখণ্ড সংক্রান্ত।

গত রোববার জেনেভায় মার্কিন ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদের বৈঠকে শান্তি চুক্তি সংক্রান্ত প্রাথমিক ২৮ দফা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের পর দুই পক্ষ জানিয়েছে যে, তারা “হালনাগাদ ও সংশোধিত” শান্তিচুক্তির খসড়া নিয়ে কাজ করছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, আলোচনার পরে প্রস্তাবনায় এখন ‘কম পয়েন্ট’ রয়েছে এবং এতে ‘সঠিক কিছু উপাদান’ যুক্ত হয়েছে। তবে সংবেদনশীল ইস্যুগুলো এখনও মীমাংসার অপেক্ষায়।

যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। বিশেষত ইউরোপীয় দেশগুলো সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। তারা মনে করিয়ে দিয়েছে যে, কোনো চুক্তি তখনই কার্যকর হবে যখন এটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করবে এবং রাশিয়ার দ্বারা নতুন কোনো আক্রমণ রোধ করবে।

যুদ্ধক্ষেত্রে এখনও শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হামলা, মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণ অব্যাহত রয়েছে। তারপরও কূটনৈতিক অগ্রগতি যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আশা জাগাচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন শান্তি আলোচনার জন্য বিশেষ দূতদের ইউক্রেন ও রাশিয়ায় পাঠাচ্ছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কূটনীতিক পৃথক আলোচনাও চালাচ্ছেন।

যদিও চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, তবে সংশোধিত প্রস্তাবনা এবং রাজনৈতিক অগ্রগতি প্রমাণ করছে যে, যুদ্ধ বন্ধের পথে সরাসরি একটি পথ তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নানা দেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো, যুদ্ধের পরবর্তী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা।

এই প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের জন্য নতুন আশা জাগাচ্ছে। যারা ঘর-বাড়ি হারিয়েছে, যারা যুদ্ধের ভয়ে উদ্বিগ্ন, তাদের জন্য সম্ভাব্য শান্তি কেবল কল্পনা নয়, বরং বাস্তব সম্ভাবনা। ট্রাম্পের কথায়, “আমি মনে করি আমরা পৌঁছব।” কিন্তু সেই ‘আমরা’ কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, এটি ইউক্রেন, রাশিয়া এবং সমগ্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এখন শুধু অপেক্ষা, কবে এই চুক্তি বাস্তবায়িত হবে এবং সবার জন্য শান্তি নিশ্চিত হবে।

যুদ্ধবিরতি বা চূড়ান্ত চুক্তি হলেও, এটি হবে বিশ্বের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সাধারণ মানুষের আশা একত্রে কাজ করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত