ইমানদাররা ক্ষমতায় এলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়: মামুনুল হক

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৯ বার
ইমানদাররা ক্ষমতায় এলে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়: মামুনুল হক

প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২৫। একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, ইমানদাররা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসলে ইসলামী রাষ্ট্র কায়েম হয়। তিনি বলেন, ইসলামের বিধান অনুযায়ী ইমানদারদের হাতে ক্ষমতা গেলে নামাজ ও যাকাত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়। এ ধরনের নির্দেশনা আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন। তিনি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন এবং মনে করেন, ধর্মনিরপেক্ষ নীতি বা সেকুলারিজমের ধারণা ইসলামাবলম্বীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

রোববার (৩০ নভেম্বর) চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে জেলা কওমি সংগঠনের আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলে তিনি এ বক্তব্য রাখেন। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা ধর্মনিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করতে পারেন। তবে মুসলমানদের ক্ষেত্রে এটি অসম্ভব, কারণ যারা ইসলাম হৃদয়ে ধারণ করে তারা কুরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করতে বাধ্য। তার ভাষ্য, অন্য কোনো ধর্ম রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর এমন নির্দেশনা দেয় না; তাই মুসলমানরা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

মাওলানা মামুনুল হক বিএনপিকে বিশেষভাবে নিশানা করেছেন। তিনি বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল ধর্মনিরপেক্ষ মতবাদের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র পরিচালনার চেষ্টা করে, তবে কোনো ইসলামী দল তাদের সঙ্গে থাকবে না। তিনি এ ধরনের নেতাদের মূর্খ ও ভণ্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার বক্তব্যে তিনি ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং বলেন, ইসলামী নীতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করা মুসলিমদের মৌলিক কর্তব্য।

তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহ’ সংযোজন করেছিলেন জিয়াউর রহমান, অথচ তার অনুসারীরা এখন ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করে দেশ চালানোর চেষ্টা করছেন। মাওলানা বলেন, এটি কখনোই সফল হতে পারবে না এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

সরকার ও ভারতের সম্পর্ক প্রসঙ্গেও মাওলানা মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের এক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতকে ‘নিকটতম প্রতিবেশী, আপনজন ও বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্র’ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “৫ আগস্টের পর দেখা গেছে, সেই নীতি অনুসৃত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তা ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে সুনিশ্চিত।” তিনি এ সম্পর্ককে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, নেতৃবৃন্দ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কায়েম করতে গিয়ে নিজেদের ‘তাদের কাছে মাথা বিক্রি করে দিয়েছেন’, যা আর কাউকে করতে দেওয়া হবে না।

তিনি দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি বাংলাদেশে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে শুধু দেশের মুসলমানদের জন্য নয়, বরং ভারতীয় মুসলিমসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমানদের জন্যও শাসন ফিরে আসবে এবং কোরআনের শাসন কার্যকর হবে। মাওলানা এ ধরনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার আশা প্রকাশ করেছেন।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হটাও আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাইয়্যেদ হোসাইন আহমদ মাদানীর ছোট ছেলে আওলাদে রাসুল সাইয়্যেদ আসজাদ মাদানী (দেওবন্দ, ভারত), জাফরাবাদ কাসেমুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাওলানা খাজা আহমদ উল্লাহ, মুফতি সিরাজুল ইসলাম, হাজীগঞ্জ বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা কবির আহমদ এবং চাঁদপুর জেলা কওমি সংগঠনের সভাপতি মুফতি আবু সাঈদসহ আরও অনেকে। তাদের উপস্থিতি মাহফিলকে ধর্মীয় ও সামাজিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত করেছে।

মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র গঠনের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেন এবং মুসলিমদের ধর্মীয় ও নৈতিক কর্তব্য অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, ইসলামী রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার, সামাজিক সাম্য ও ধর্মীয় কর্তব্যের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। এ ধরনের রাষ্ট্রে নামাজ, যাকাত, মীরত ও অন্যান্য ধর্মীয় বিধান সঠিকভাবে পালন হয় এবং জনগণ নৈতিক ও ধর্মীয় দিক থেকে প্রভাবিত হয়।

মাহফিলে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে কওমি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মাদ্রাসার ছাত্র ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাওলানার বক্তব্যকে সমর্থন জানিয়ে বলেন, ইসলাম রাষ্ট্রের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি পূর্ণাঙ্গ দিক নির্ধারণ করে। মুসলমানদের নেতৃত্বে এই বিধান বাস্তবায়িত হলে সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি পাবে।

মাওলানা মামুনুল হক তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শুধু ধর্মীয় বিধান বাস্তবায়িত হবে না, বরং দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও উন্নত হবে। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণ করলে নৈতিক দুর্বলতা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সামাজিক অনিয়ম বৃদ্ধি পায়। ইসলামিক রাষ্ট্রে এই সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং দেশের নাগরিকদের জন্য ন্যায়সংগত সুযোগ সৃষ্টি হয়।

সংক্ষেপে, মাওলানা মামুনুল হকের বক্তব্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেছে। তিনি ইসলামী নীতি অনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনার পক্ষপাতিত্বে শক্ত অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। মাহফিলে ধর্মীয় নেতাদের উপস্থিতি এই বার্তাকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং দেশের মুসলমান সমাজের মধ্যে ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা ও তাৎপর্য নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত