প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
লেবাননে সফরের দ্বিতীয় দিনে হাজারো তরুণ ও তরুণীর উচ্ছ্বাসে ঘিরে সোমবার আশার বার্তা প্রদান করেছেন রোমের পোপ লিও চতুর্দশ। সংকট ও অস্থিরতার মুখোমুখি এই দেশে পোপের আগমনকে কেন্দ্র করে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বৃষ্টি ও ঠাণ্ডা আবহাওয়াও মানুষের উদ্দীপনা কমাতে পারেনি। বৈরুতের উত্তরের বকিরকে এলাকায় যুবকদের এক অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫,০০০ মানুষের উপস্থিতিতে পোপকে স্বাগত জানানো হয়। উপস্থিতরা করতালি, শিস এবং উল্লাসে তার আগমনকে উদযাপন করেছেন।
পোপ তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “তোমাদের হাতে রয়েছে বিশ্বের পরিবর্তনের শক্তি। ইতিহাসের পথে নতুন অধ্যায় গড়ার সুযোগ তোমাদের। লেবাননের যুবকরা দৃঢ় ও সাহসী হয়ে আশার আলো ছড়িয়ে দাও।” তাঁর এই উত্সাহব্যঞ্জক বার্তা দেশের যুবকদের মধ্যে আশা ও প্রেরণার সঞ্চার করেছে।
লেবাননের তরুণরা দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক সংকট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৈরুত বন্দরের ধ্বংস এবং সাম্প্রতিক ইসরাইল–হিজবুল্লাহ সীমান্ত সংঘাতের কারণে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। পোপের আগমন তাদের কাছে একটি নতুন উদ্দীপনার প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার পোপ লেবাননের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদের সহনশীলতা, ন্যায় ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ভয়, অবিশ্বাস এবং পূর্বাগ্রহই চূড়ান্ত নয়। সহাবস্থান, ঐক্য ও পুনর্মিলন সম্ভব।” তার বক্তব্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের মধ্যে এক নতুন আশা ও ঐক্যের বার্তা স্পষ্ট হয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে পোপ লিও লেবাননের ঐতিহাসিক স্থানসমূহ পরিদর্শন করেছেন। তিনি সেন্ট শারবেলের সমাধিস্থল ও হারিসায় ‘আওয়ার লেডি অব লেবানন’ মূর্তির সামনে প্রার্থনা সভায় অংশ নেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের জন্য আমরা শান্তি চাই—বিশেষত লেবানন ও লেভান্ত অঞ্চলের জন্য।” এই সফর দেশের যুবক ও সাধারণ মানুষকে শান্তি, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের পথে অনুপ্রাণিত করছে।
ইসরাইল সীমান্তের নিকটবর্তী রমিশ গ্রামের পুরোহিত টনি এলিয়াস জানান, “দুই বছর ধরে যুদ্ধের মধ্যে থেকেও আমরা আশা হারাইনি। পোপের আগমন আমাদের বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।” যদিও ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর আছে, তবুও ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আন্তর্জাতিক চাপের কারণে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে, যা সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।
পোপের সফরের জন্য লেবানন সরকার রবিবার ও সোমবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ড্রোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই আয়োজন সাধারণ মানুষকে পোপের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের সুযোগ দিয়েছে।
স্থানীয়রা পোপের আগমনকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখছেন। থেরেস দারাউনি বলেন, “সবাই রোমে পোপকে দেখতে যায়, কিন্তু তিনি আমাদের কাছে এসেছেন—এটাই সবচেয়ে বড় বরকত।” ইয়াসমিন চেদিয়াক বলেন, “তার আগমন আমাদের মুখে হাসি ফিরিয়েছে এবং জীবনে নতুন উদ্দীপনা এনে দিয়েছে।” পোপের এই বার্তা যুবকদের মধ্যে আশা, আত্মবিশ্বাস ও একতার অনুভূতি বৃদ্ধি করেছে।
লেবাননের যুবকরা দীর্ঘদিন ধরে সংকটপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার মধ্যেও পোপের সফর তাদের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গি এবং অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে। পোপ লিও চতুর্দশের বার্তা স্পষ্ট করেছে যে যুবসমাজ দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার শক্তি, এবং এই শক্তি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত নয়, সমগ্র জাতির জন্য প্রেরণার উৎস।
পোপের সফর কেবল লেবাননের যুবকদের জন্য নয়, পুরো দেশ এবং আঞ্চলিক শান্তির জন্যও এক নতুন বার্তা বহন করছে। পোপের উপস্থিতি মানুষের মধ্যে বিশ্বাস, আশা ও একতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।