তারেক রহমান এসএসএফ নিরাপত্তা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৪ বার

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিভিআইপি ঘোষণা করে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) নিরাপত্তা প্রদান করা হয়েছে। এই ঘোষণার পর দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। এবার প্রশ্ন উঠেছে, জিয়া পরিবারের অন্য সদস্য এবং বিএনপির সিনিয়র সাংসদ তারেক রহমান কি একই ধরনের নিরাপত্তা পাবেন কি না।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকের পর পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যগত অবস্থা, উচ্চ মর্যাদা, হাসপাতালের নির্বিঘ্ন চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা বিবেচনায় নিয়ে তাকে ভিভিআইপি ঘোষণা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিন দুপুর ২টা ২০ মিনিটে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত এসএসএফ সদস্যরা এভারকেয়ার হাসপাতালে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এতে করে দেশজুড়ে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়ে। এসএসএফ অধ্যাদেশ অনুযায়ী, অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। ভিভিআইপি ঘোষিত ব্যক্তিদের মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান এবং বিদেশি রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানদের নিরাপত্তা এসএসএফ সরাসরি নিশ্চিত করে। তবে সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে অন্য যে কেউ ভিভিআইপি ঘোষণা করা হলে, তার নিরাপত্তাও দেওয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর জানিয়েছেন, তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তা বিষয়টি বিবেচনা করে সরকারের কাছে এসএসএফ সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব দেওয়া হবে। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, রাষ্ট্র বা সরকার ঘোষিত ভিভিআইপি হিসেবে খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় তার পরিবারের সদস্য হিসেবে তারেক রহমানও অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান যদি দেশে ফেরেন, তবে তার ঢাকায় বিমানবন্দরে অবতরণের মুহূর্ত থেকেই এসএসএফ নিরাপত্তা কার্যকর হতে পারে। খালেদা জিয়ার ভিভিআইপি নিরাপত্তা ইতোমধ্যেই তার চলাচল, চিকিৎসা ও সরকারি মর্যাদা নিশ্চিত করছে। একই ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তারেকের জন্য কার্যকর হলে, দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও তা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

বাংলাদেশে তিন ধরনের বিশেষ নিরাপত্তার শ্রেণি রয়েছে—ভিভিআইপি, ভিআইপি এবং সিআইপি। ভিভিআইপি ও ভিআইপি শ্রেণি রাষ্ট্রীয় বিবেচনায় নির্ধারিত হয়, আর সিআইপি নির্বাচন করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। দেশের প্রধান দুই ভিভিআইপি হলেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষভাবে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট এবং এসএসএফ নিয়োজিত থাকে। এছাড়া রাষ্ট্র কাউকে ভিআইপি ঘোষণা করলে, তাদের নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্বও এসএসএফ করে।

এসএসএফ শুধু নিরাপত্তা প্রহরায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজনে তারা আইনানুগ ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারে, গ্রেফতার করতে পারে এবং নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনে গুলি চালাতে পারে। সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেখাচ্ছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

খালেদা জিয়ার ভিভিআইপি ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজনৈতিক নেতাদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রের দৃষ্টি ও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে, এটি জিয়া পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উপসংহারে, খালেদা জিয়ার ভিভিআইপি ঘোষণা এবং তারেক রহমানের সম্ভাব্য এসএসএফ নিরাপত্তা দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। এটি দেখাচ্ছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু সরকারি দায়িত্ব নয়, রাজনৈতিক নেতাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা রক্ষায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত