দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্যা-ভূমিধসে প্রাণহানি ১৩শ’ ছাড়াল

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বন্যা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাবে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৩শ’ ছাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তিন দেশে নিখোঁজ রয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হলেও দুর্যোগের প্রকোপ এখনও থামেনি।

ইন্দোনেশিয়ায় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। সুমাত্রা দ্বীপ এবং জাভা অঞ্চলে অপ্রত্যাশিত ভারী বর্ষণ ও নদীর বন্যার কারণে বিপুল তাণ্ডব চালিয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, শুধুমাত্র ইন্দোনেশিয়াতেই মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৭শ’ ছাড়িয়েছে। উদ্ধারকারী দল ও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে দুর্যোগের তীব্রতার কারণে যথাযথ উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তাহলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এটি দেশটিতে ২০১৮ সালের পর সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

শ্রীলঙ্কায়ও বন্যা এবং ভূমিধসের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১০ জনে। দেশটির প্রায় তিনশ’ বাসিন্দার এখনও কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই, বেশিরভাগ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন মানবিক সহায়তার জন্য প্রত্যাশিত। স্থানীয় প্রশাসন এবং সেনা উদ্ধার কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

থাইল্যান্ডে বন্যার কারণে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮১ জনে। দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে নদী বহমান এবং ভেঙে যাওয়ার ফলে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। থাইল্যান্ডের সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন উদ্ধার কার্যক্রম চালাচ্ছে, কিন্তু পানীয় জলের সরবরাহ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনও সীমিত।

এই তিনটি দেশেই কৃষি এবং স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধানক্ষেত, সবজি বাগান, মাছ চাষ এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র উদ্যোগের ক্ষতি ব্যাপক। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজনের জীবিকা বিপন্ন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীর নিয়মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে দুর্যোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবিক সংগঠনগুলো জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ তহবিল ও উদ্ধারকর্মী পাঠাচ্ছে। খাদ্য, শরণার্থী শিবির, চিকিৎসা সেবা এবং পানীয় জল সরবরাহের জন্য বিভিন্ন সংস্থা সক্রিয়। এছাড়া দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দল এবং সেনা উদ্ধারকর্মীরা বিপন্ন অঞ্চলে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের জন্য পর্যাপ্ত পূর্বাভাস ব্যবস্থা, জলাধার ও বাঁধ সংস্কার, স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি অপরিহার্য।

দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই তাণ্ডব শুধুমাত্র মানুষের প্রাণহানি নয়, বরং অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রভাবও সৃষ্টি করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম চালানো না হলে স্থানীয় জনগণ দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

মৌসুমী বৃষ্টিপাত এবং নদী পারাপারের কারণে এসব দেশগুলোতে যে ধরনের দুর্যোগ হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং দ্রুত সহায়তা পৌঁছানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

এভাবে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশ—ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা এবং থাইল্যান্ডে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কারণে মানবিক বিপর্যয় চলছে, এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এখনও চলমান।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত