২০২৫ সালে ২০০ ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৪ বার
২০২৫ সালে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টিতে ২০০ ছক্কার রেকর্ড

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক পঞ্জিকাবর্ষে ২০০ ছক্কার মাইলফলক অতিক্রম করেছে দেশটির ব্যাটসম্যানরা। গতকাল (২ ডিসেম্বর) আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ চলাকালীন এই রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ।

আগের রেকর্ডটি ছিল ২০২৪ সালের, যখন বাংলাদেশ দল ১২২টি ছক্কা মেরেছিল। তবে চলতি বছর সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়েছেন তানজিদ তামিম, লিটন দাস, পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসানরা। চলতি বছর বাংলাদেশ দলের ১৮জন ক্রিকেটার মিলিয়ে ২০৬টি ছক্কা মেরেছেন। শুধুমাত্র টপ অর্ডারের চার ব্যাটারের অবদানই ১২৭টি ছক্কা, যেখানে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদ তামিমের।

তানজিদ তামিম ২০২৫ সালে ৪১টি ছক্কা হাঁকিয়ে এক বছরে কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বাধিক ছক্কা এসেছে পারভেজ ইমনের ব্যাট থেকে, ৩৪টি। দলের ফেরার পর ১৫টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সাইফ হাসান ২৯টি ছক্কা মেরেছেন, আর লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে ২৩টি। মিডল অর্ডারে খেলা জাকের আলী অনিক ২৩ ইনিংসে ১৯টি ছক্কা মেরেছেন, শেষ ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ১৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। শামীম হোসেনের ব্যাট থেকে এসেছে ৯টি ছক্কা।

যদিও টপ অর্ডারের ক্রিকেটাররা ভালো পারফরম্যান্স দেখালেও জাকের আলী অনিক ও তাওহীদ হৃদয়ের ছক্কা মারার পরিসংখ্যানের দিক থেকে সামান্য অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর এই দুই ব্যাটারই ২১টি করে ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।

বৈশ্বিকভাবে ছক্কা মারার দিক থেকে এখনও বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। চলতি বছরে সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ডটি অস্ট্রিয়ার, যেখানে তাদের ব্যাটসম্যানরা ২৮টি ম্যাচে ৩২৬টি ছক্কা মেরেছেন। টেস্ট খেলার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছক্কা হাঁকিয়েছে পাকিস্তান, ৩৪টি ম্যাচে ২৩৫টি ছক্কা। এরপর অবস্থান করছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের এই ছক্কার সংখ্যা শুধু মাইলফলক গড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দলের আক্রমণাত্মক খেলার মনোভাব ও শক্তি তুলে ধরেছে। চলতি বছর নতুন প্রজন্মের ব্যাটসম্যানরা প্রমাণ করেছেন, তারা শীর্ষ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশকে সাফল্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম।

এ বছর দলের ছক্কার সংখ্যার পেছনে প্রধান অবদান রাখা খেলোয়াড়রা যেমন টপ অর্ডারের ব্যাটসম্যান তানজিদ তামিম ও লিটন দাস, তেমনি মিডল ও লোয়ার অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা দলকে সহায়তা করেছেন। এর ফলে, বাংলাদেশ এক বছরের মধ্যে সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ড ভেঙে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই সাফল্য আন্তর্জাতিক স্তরেও দলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শৈলী ও শক্তি প্রদর্শনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের ছক্কার গতি ও ধারাবাহিকতা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। বিশেষত, দলটির টপ অর্ডার এবং মিডল অর্ডারের ব্যাটসম্যানরা উচ্চ মানের ব্যাটিং প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এবং কোচিং স্টাফরা এই সাফল্যকে দলকে আরও উন্নত করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। আগামী বছরের আন্তর্জাতিক সিরিজ এবং বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই ছক্কার পরিসংখ্যান খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও দলের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সমগ্র বছর ধরে ছক্কার এই ধারাবাহিকতা শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিশ্লেষকদের নজরেও এসেছে। দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা উদ্দীপনা ও উল্লাসের সঙ্গে এই রেকর্ড উদযাপন করছেন এবং আশা প্রকাশ করছেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা এমন দারুণ পারফরম্যান্স অব্যাহত রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত