এভারকেয়ারের পাশে হেলিকপ্টার অবতরণ পরীক্ষা

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪১ বার
এভারকেয়ারের পাশে হেলিকপ্টার অবতরণ পরীক্ষা

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী এভারকেয়ার হাসপাতালের নিকটস্থ উন্মুক্ত দুটি মাঠে হেলিকপ্টারের পরীক্ষামূলক অবতরণ ও উড্ডয়ন পরিচালনা করবে। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এস এস এফ)-এর নিরাপত্তা প্রটোকল অনুযায়ী এ কার্যক্রমটি ১২টা থেকে বিকাল ৪টার মধ্যে সম্পন্ন হবে। বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

এ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে এভারকেয়ার হাসপাতালের চারপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হাসপাতালের প্রশাসন ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলি স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে অবতরণ ও উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুতি নেবে। হেলিকপ্টার অবতরণ পরীক্ষার উদ্দেশ্য হলো হাসপাতাল সংলগ্ন উন্মুক্ত মাঠে দ্রুত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন অবতরণের সক্ষমতা যাচাই করা।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বিশেষ বৈঠকে খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তার নির্বিঘ্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এছাড়াও, তার প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যাতায়াতের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তাকে রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিভিআইপি) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে, যা ড. ইউনূসের সভাপতিত্বে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

এস এস এফ এবং সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হেলিকপ্টারের এই পরীক্ষামূলক অবতরণ কার্যক্রমের মাধ্যমে হাসপাতালের আশেপাশে নিরাপদ ল্যান্ডিং জোন নির্ধারণ করা হবে। বিশেষত জরুরি ভিত্তিতে রোগী স্থানান্তরের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। নিরাপত্তা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ও মানসিক প্রস্তুতির জন্য এই ধরণের পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা উল্লেখ করেছেন।

হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরীক্ষামূলক অবতরণ চলাকালীন সময় হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম নির্বিঘ্নভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে। এছাড়াও, স্থানীয় জনগণকে এই কার্যক্রমের সময় নিরাপদ দূরত্বে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনীর যৌথ উদ্যোগে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন ও অবতরণের সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের পরিকল্পিত হেলিকপ্টার অবতরণ পরীক্ষা দেশের নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ স্থাপন করছে। এটি শুধুমাত্র হেলিকপ্টার পরিচালনা ও অবতরণের দক্ষতা যাচাই নয়, বরং ভবিষ্যতে বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে দ্রুত এবং নিরাপদ রোগী পরিবহনে সহায়ক হবে।

এ কার্যক্রমের মাধ্যমে খালেদা জিয়ার নিরাপদ ও দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতকরণ সম্ভব হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত হবে। সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী এটি একটি মানসম্পন্ন প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করছে, যা প্রয়োজন অনুযায়ী বাস্তব পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাবে।

এবারের হেলিকপ্টার অবতরণ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করবেন। প্রয়োজনীয় সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে হেলিকপ্টারের অবতরণ ও উড্ডয়ন পদ্ধতির তদারকি, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ব্যবস্থা।

এবারের উদ্যোগটি প্রমাণ করবে যে দেশের সেনা ও বিমান বাহিনী জরুরি অবস্থায় হাসপাতাল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপদ ও দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত করতে সক্ষম। বিশেষত ভিভিআইপি ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সুতরাং, বৃহস্পতিবারের হেলিকপ্টার অবতরণ পরীক্ষা কেবল একটি প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা উদ্যোগ নয়, এটি দেশের উচ্চ মর্যাদার ব্যক্তিদের নিরাপদ চিকিৎসা ও জরুরি প্রতিক্রিয়ার জন্য একটি শক্তিশালী প্রস্তুতি হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত