নোয়াখালীর বিআরটিসি ডিপোয় গভীর রাতে আগুন, দুই বাস পুড়ে ছাই

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৯ বার
নোয়াখালীতে বিআরটিসির দুই বাসে আগুন

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নোয়াখালী সদর উপজেলার সোনাপুরে বিআরটিসি ডিপোতে গভীর রাতে আগুন লেগে দুটি বাস পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশি তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ভোরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম। আগুনে দুটি বাসের উপরের অংশ সম্পূর্ণ পুড়ে গেলে আরেকটি বাস আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো ডিপোতে মোট ২১টি বাস রাখা হয়েছিল। হঠাৎ রাতে দু’টি বাসের ওপর আগুন জ্বলে ওঠে। স্থানীয় লোকজন আগুনের শব্দ ও ধোঁয়া দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওঠেন। সঙ্গে সঙ্গে মাইজদী ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তাদের দ্রুত প্রতিক্রিয়ায় আরও বড় ধরনের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হয়।

আক্রান্ত বাস দুটি হলো ‘গুলবাহার’ ও ‘মালতি’, যা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চলাচল করে। বাস দুটি স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবহন সেবা দিয়ে আসছিল। ডিপোর ম্যানেজার মো. আরিফুর রহমান তুষার জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং তদন্ত শেষে এটি প্রকাশ করা হবে।

ওসি মো. কামরুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনো পুলিশ সদস্যরা সেখানে অবস্থান করছেন। প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে না আগুনের প্রকৃত কারণ কী। তদন্ত শেষে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।” তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানান, আগুনের সময় ডিপোর আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা ঘর থেকে বের হয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। কিছু শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারী দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান। এই ঘটনায় ডিপোতে থাকা অন্যান্য বাস এবং প্রতিষ্ঠানের সুবিধাজনক সামগ্রীর ক্ষতি এড়ানো যায়।

নোয়াখালী অঞ্চলে বিআরটিসি বাসগুলো মূলত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী এবং সাধারণ যাত্রীদের সেবা দিয়ে থাকে। দুটি বাসের আগুনে যাত্রী পরিবহনে সাময়িক অশান্তি ও বিপাকে পড়তে হতে পারে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দুর্ঘটনার পেছনে কারা দায়ী তা দ্রুত প্রকাশ না হলে পরিবহন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজন।

ডিপোতে আগুন লাগার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পুলিশি তৎপরতা এবং ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রশংসিত হলেও, স্থানীয়রা এখনো আতঙ্কে রয়েছেন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসগুলোর পুনঃনির্মাণ ও সার্ভিস স্বাভাবিক করতে সময় লাগবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি দ্রুত পরিস্থিতি যাচাই করে প্রতিবেদন জমা দেবে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে সোনাপুর বিআরটিসি ডিপোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে, স্থানীয় মানুষ ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা দাবি করছেন, যাত্রী পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয়দের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও কাজ করেছে। বাসের নিরাপত্তা, ডিপোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রয়াসের গুরুত্ব পুনরায় সামনে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা এই ধরনের দুর্ঘটনা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত