গিনেস বুক আর ইসরায়েলের রেকর্ড আবেদন গ্রহণ করবে না

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪২ বার
গিনেস বুক আর ইসরায়েলের রেকর্ড আবেদন গ্রহণ করবে না

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস প্রতিষ্ঠান ঘোষণা করেছে, তারা আর কোনো ইসরায়েলি রেকর্ড আবেদন গ্রহণ বা পর্যালোচনা করবে না। ইসরায়েল থেকে পাঠানো সব নতুন রেকর্ড নিবন্ধনের আবেদন স্থগিত রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পশ্চিম তীর ও গাজা অঞ্চলের আবেদনের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য হবে বলে গিনেস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ব্রিটেনভিত্তিক এই রেকর্ড সংরক্ষণকারী সংস্থা সম্প্রতি একটি ঘোষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে, বর্তমানে তারা ইসরায়েলের পক্ষ থেকে কোনো নতুন আবেদন পরীক্ষা করছে না। এই সিদ্ধান্ত গিনেস বুকের রেকর্ড প্রক্রিয়ায় একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ইসরায়েলি চ্যানেল এন১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গিনেস কর্তৃপক্ষ ইসরায়েল থেকে প্রাপ্ত নতুন আবেদনগুলি আপাতত স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি অঞ্চলে পরিচালিত স্বেচ্ছায় কিডনি দান কার্যক্রম সংক্রান্ত আবেদন। মাতনাত চাইম নামের একটি সংস্থা দাবি করেছিল, তারা মোট দুই হাজার জন দাতাকে সংগঠিত করেছেন, যারা অপরিচিত মানুষদের কিডনি দান করেছেন। সংস্থাটি এ দাতাদের একত্রিত করে একটি গ্রুপ ছবি তুলে রেকর্ড নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল।

গিনেস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের নীতি অনুযায়ী, যেসব দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাত সম্পর্কিত পরিস্থিতি জড়িত, সেসব অঞ্চলের আবেদন স্থগিত রাখা হচ্ছে। বিশেষভাবে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি প্রেক্ষাপটে এই নীতি প্রযোজ্য হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র বলেছেন, “গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস সমস্ত আবেদনকে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার চেষ্টা করে। তবে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কিত কারণগুলোর কারণে কিছু আবেদন স্থগিত রাখা প্রয়োজন হয়েছে।”

ফিলিস্তিনি অঞ্চল থেকে প্রাপ্ত আবেদনটি বিশেষভাবে মানবিক ও সামাজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি দানের মতো স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্য ছিল। তবে গিনেসের স্থগিতাদেশের কারণে এই আবেদন গ্রহণ করা হয়নি। মাতনাত চাইম সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তের প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ এটি মানবিক সেবাকে উদযাপনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গিনেস বুকের এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের প্রভাবকে প্রতিফলিত করছে। ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি অঞ্চলের আবেদনের স্থগিতাদেশকে অনেকেই রাজনৈতিক বিবেচনার সঙ্গে যুক্ত করছেন। তবে গিনেস কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থানকে সম্পূর্ণভাবে সংবিধানগত ও নীতিমালার ভিত্তিতে স্থগিতাদেশ বলেছে।

এর আগে, গিনেস বুক বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ধরনের রেকর্ড স্বীকৃতি প্রদান করে আসছে। শিক্ষা, খেলাধুলা, মানবিক উদ্যোগ, প্রযুক্তি, পরিবেশ এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে রেকর্ড গ্রহণের জন্য আবেদন করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত কারণে এখন ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল থেকে পাঠানো আবেদনগুলো স্থগিত রাখা হচ্ছে।

এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন মানবাধিকার ও সামাজিক সংস্থা গিনেস কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছে, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রয়োগ না করার জন্য। অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি একটি সতর্কতা স্বরূপ যে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের আবেদনে সংবিধানগত ও নিরাপত্তাজনিত দিক বিবেচনা করা হচ্ছে।

ফলে, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি অঞ্চল থেকে নতুন কোনো রেকর্ড স্বীকৃতি এখন সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে না। গিনেস বুকের এই নীতি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে আন্তর্জাতিক রেকর্ড স্বীকৃতি এবং মানবিক উদ্যোগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিতে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত