প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় বুধবার গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে তার মোটরসাইকেল, মোবাইল ফোন এবং টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। রাত প্রায় ১২টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের বারাইপুর গ্রামের লেদু মিয়ারগো বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন (২৭) একই গ্রামের মৃত শাহ আলম মেম্বারের ছেলে। তিনি স্থানীয় খলিফারহাট বাজারে মোবাইলের ব্যবসা করেন। সাদ্দামের বড় ভাই মো. লিটন জানান, তাদের বাড়ির পাশেই ছোট ভাইয়ের দুটি মোবাইল দোকান রয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে সাদ্দাম মোটরসাইকেল নিয়ে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় বারাইপুর গ্রামের লেদু মিয়ারগো বাড়ির সামনে একটি স্পিড ব্রেকার থাকায় তিনি গতি কমান। ঠিক তখনই দূর্বৃত্তরা তার দিকে এগিয়ে আসে। সাদ্দাম পালানোর চেষ্টা করলে পেছন থেকে তার পিঠে গুলি করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। গুলিবিদ্ধ অংশে গুরুতর আঘাত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
ওসি মো. কামরুল ইসলাম জানান, এখনও কেউ এ ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ করা হলে পুলিশ তদন্ত শুরু করবে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ না হলে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।”
স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন, কারণ রাতের আঁধারে এমন সন্ত্রাসী ঘটনা এলাকার সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখছে। সাদ্দামের পরিবারের সদস্যরা জানান, এমন ঘটনায় ব্যবসায়ী সমাজ এবং সাধারণ মানুষ ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়ছে। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেবে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হবে।
নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়গুলোতে চুরি, ছিনতাই এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে গেছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলরত মানুষদের উপর দুর্বৃত্তদের দমনমূলক হামলা বাড়ছে। নিরাপত্তা বাহিনী সচেতন হলেও কিছু এলাকায় অপরাধীদের কার্যক্রম থামানো যাচ্ছে না। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ কমিউনিটির সঙ্গে সমন্বয় করে এলাকাগুলোতে টহল বাড়াচ্ছে।
সাদ্দামের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষরা এ ধরনের ঘটনার কারণে আতঙ্কিত। তার পরিবারের সদস্যরা আশা করছেন, দ্রুত সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করা হবে এবং তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে স্থানীয় পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের চাওয়াও রয়েছে।
ঘটনাটি নোয়াখালীতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রাতের সময় চলাচলরত মানুষদের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো, সিসিটিভি মনিটরিং, দ্রুত টহল এবং স্থানীয় কমিউনিটির সাথে সমন্বয় অপরিহার্য। প্রশাসনের তৎপরতার সঙ্গে সড়কে সিসিটিভি, পর্যাপ্ত আলো ও নিয়মিত পুলিশ টহল এলাকায় অপরাধ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এদিকে, সাদ্দামের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, ন্যায়বিচার ও দ্রুত বিচার না হলে এলাকার মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবে এবং অপরাধীরা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।
নোয়াখালীতে নিরাপত্তার চিত্র ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, প্রশাসনের পদক্ষেপ এবং পুলিশের তৎপরতা এই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সঠিক তদন্ত ও ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়।