অগ্রিম টিকিটে ধুম, রণবীরের ‘ধুরন্ধর’ রাতেই মুক্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬১ বার
রণবীর সিং ধুরন্ধর সিনেমা

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বলিউডের ব্যাটল-রেজিস্টার রণবীর সিংয়ের নতুন সিনেমা ‘ধুরন্ধর’ রাত পোহালেই দর্শকের সামনে আসছে। শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাচ্ছে ছবিটি। মুক্তির আগেই অগ্রিম টিকিট বিক্রির খবর চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনার ঢেউ তুলেছে। জানা গেছে, সিনেমার অগ্রিম টিকিট বিক্রি ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, দর্শকরা রণবীর সিংয়ের নতুন চমক দেখতে কতটা অধীর আগ্রহী।

ট্রেড এক্সপার্টরা বলছেন, ‘ধুরন্ধর’-এর অ্যাডভান্স বুকিং থেকে ৩.৭১ কোটি রুপি আয় হয়েছে শুধুমাত্র ব্লক সিট বিক্রির মাধ্যমে। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে যে, সিনেমার প্রতি দর্শকের আগ্রহ অত্যন্ত উজ্জ্বল। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুক্তির প্রথম দিনে ছবিটির আয় ৩৭ থেকে ৪০ কোটি রুপি পর্যন্ত হতে পারে। তবে এখনও সিনেমা মুক্তি পায়নি, তাই এসব হিসাব মূলত পূর্বানুমান।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ রোহিত জয়সওয়ালও তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ‘ধুরন্ধর’-এর প্রথম দিনের আয় প্রায় ৩৭ থেকে ৪০ কোটি রুপি হতে পারে। অন্যদিকে, চলচ্চিত্র বিশ্লেষক নবনীত মুন্দ্রা প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছেন, ছবিটি প্রথম দিনে ১৬ থেকে ১৮ কোটি রুপি আয় করতে পারে। এছাড়া, ইন্ডিয়ান বক্স অফিসের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বলছে, সিনেমার প্রথম দিনের আয় ২০ কোটি রুপির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এই ভিন্ন ভিন্ন পূর্বানুমান দর্শকদের কৌতূহল আরও বাড়াচ্ছে, এবং দেখার বিষয় হবে, সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্য কতটা পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে যায়।

সিনেমার প্রতি আগ্রহ শুধু টিকিট বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ নয়। শোনা যাচ্ছে, মুম্বাইয়ের কিছু মাল্টিপ্লেক্সে একক টিকিটের দাম দুই হাজার রুপি পর্যন্ত ওঠেছে, যার ওপর সরকারি করও যোগ হচ্ছে। এ ধরনের উচ্চমূল্যের টিকিটও দর্শকদের উপস্থিতি কমাতে পারেনি। এটি প্রমাণ করে যে, ‘ধুরন্ধর’-এর প্রতি দর্শকদের আগ্রহ নিঃসন্দেহে চরম পর্যায়ে রয়েছে।

‘ধুরন্ধর’-এর নির্মাতা হলেন বলিউড অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতমের স্বামী, পরিচালক আদিত্য ধর। তিনি চলচ্চিত্র জগতে নিজস্ব ছাপ রেখে চলেছেন, এবং নতুন সিনেমায় রণবীর সিংয়ের সঙ্গে তিনি এক শক্তিশালী কাস্ট উপস্থাপন করেছেন। সিনেমায় রণবীর সিংয়ের পাশাপাশি দেখা যাবে সঞ্জয় দত্ত, অক্ষয় খন্না, সারা অর্জুন, অর্জুন রামপাল এবং আর মাধবনকে। এমন জায়গায় বলিউডের এরা সকলেই একসঙ্গে পর্দায় হাজির হলে দর্শকরা কল্পনা করতে পারেন, সিনেমা কতটা আকর্ষণীয় হতে চলেছে।

চলচ্চিত্র প্রেমীদের প্রত্যাশা, শুধু বিনোদন নয়, এক নতুন সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা ‘ধুরন্ধর’ তাদের দিতে পারবে। সিনেমার গল্প, অ্যাকশন এবং অভিনয় দক্ষতা মিলিত হয়ে একটি বড় পর্দার অভিজ্ঞতা উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। দর্শকরা সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই সিনেমার অগ্রিম টিকিট বুকিং নিয়ে শেয়ার করছেন এবং তাদের প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে বোঝা যাচ্ছে, সিনেমাটি মুক্তির আগে থেকেই হিটের লক্ষণ দেখাচ্ছে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রথম দিনের আয়ের পরিসংখ্যান কেবলই প্রাথমিক মূল্যায়ন। ছবিটির সত্যিকারের ব্যবসায়িক সাফল্য তখনই বোঝা যাবে, যখন পুরো সপ্তাহে প্রেক্ষাগৃহের প্রতিক্রিয়া জানা যাবে। তবে প্রাথমিক আগ্রহ, টিকিট বিক্রি এবং সামাজিক মিডিয়ায় আলোচনা সবই প্রমাণ করছে যে, ‘ধুরন্ধর’ সিনেমা ভারতের সিনেমা দর্শকদের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিশেষ স্থান করে নিয়েছে।

এছাড়া, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং অন্যান্য ভারতীয় সংবাদপত্রও সিনেমার আগ্রিম টিকিট বিক্রি এবং বাণিজ্যিক আগ্রহের খবর সম্প্রচার করেছে। ফলে, চলচ্চিত্রের প্রতি মানুষের আগ্রহ শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই; আন্তর্জাতিক পর্যায়েও এটি নজর কাড়ছে।

সিনেমার মুক্তি কেবল বিনোদনের মাত্রা বাড়ায় না, বরং চলচ্চিত্র ব্যবসায়ের দিক থেকেও একটি বড় প্রভাব ফেলে। ‘ধুরন্ধর’-এর অগ্রিম টিকিট বিক্রি, উচ্চমূল্য টিকিট এবং বিশ্লেষক পূর্বাভাস সবই নির্দেশ করছে, সিনেমাটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে চলেছে। দর্শকরা একদিকে যেখানে রণবীর সিংয়ের অভিনয় উপভোগ করবেন, অন্যদিকে এটি বলিউডের ব্যবসায়িক রেকর্ডে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।

সর্বোপরি, ‘ধুরন্ধর’ শুধু একটি সিনেমা নয়, এটি বলিউডের বড় প্রজেক্ট, যেখানে দর্শক এবং শিল্পীদের মধ্যে এক চমকপ্রদ সঙ্গম ঘটেছে। রাত পোহালেই মুক্তি পেতে যাওয়া এই সিনেমা দর্শক, ব্যবসায়ী এবং চলচ্চিত্র বিশ্লেষকদের জন্য সমানভাবে উত্তেজনার খোরাক হয়ে উঠেছে। সিনেমার আসল পরীক্ষা হবে, মুক্তির পর দর্শকদের উপস্থিতি এবং বক্স অফিসের ফলাফল। কিন্তু যা নিশ্চিত, তা হলো, ‘ধুরন্ধর’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের মনে একটি বড় প্রত্যাশার আগুন জ্বালিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত