পাকিস্তান আংশিক খুলল আফগান সীমান্ত ক্রসিং

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৭ বার
পাকিস্তান আংশিকভাবে খুলল আফগান সীমান্ত, ত্রাণ কার্যক্রম শুরু

প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রায় ৫০ দিন বন্ধ থাকার পর পাকিস্তান জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাকের জন্য আফগানিস্তানের সঙ্গে তোরখাম ও চামান সীমান্ত ক্রসিং আংশিকভাবে পুনরায় খুলে দিয়েছে। পাকিস্তান পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সীমান্ত খোলার সিদ্ধান্তটি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়েছে। তবে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, সীমান্তটি পুনরায় খুলে দেয়া হলেও বাণিজ্য কার্যক্রম এখনও স্থগিত রয়েছে। তিনি বলেন, “আফগান জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই।”

সীমান্ত পুনঃউদ্বোধনের এই পদক্ষেপটি মানবিক সহায়তার স্বার্থে নেওয়া হয়েছে। ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো এখন আফগানিস্তানে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে পারবে। চলতি বছরগুলোতে পাকিস্তান-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা বেড়েছে, বিশেষ করে পাকিস্তানের তত্ত্বাবধানে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা পাকিস্তানি তালেবান নামে পরিচিত গোষ্ঠীটির কার্যক্রমের কারণে। যদিও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না, পাকিস্তান তাদের আফগান ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছে।

২০২১ সালে তালেবানরা আফগানিস্তানে ক্ষমতা দখল করার পর থেকে ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করেছে যে, টিটিপি আফগান ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানে সহিংস কার্যক্রম চালাচ্ছে। কাবুল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। উত্তেজনা আরও বাড়ে গত ৯ অক্টোবর কাবুলে ড্রোন হামলার পর, যা জন্য আফগান তালেবান সরকার পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করে। এই হামলার পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়, যা কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সংঘাতের পর ইসলামাবাদ তোরখাম ও চামান সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেয়, ফলে আফগানিস্তানে খাদ্য ও ওষুধের সরবরাহ স্থবির হয়ে পড়ে।

সীমান্ত বন্ধ থাকার ফলে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষসহ বিশেষত ত্রাণপ্রাপ্তদের মধ্যে সমস্যা তৈরি হয়। খাদ্য ও ওষুধের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ত্রাণ সংস্থাগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে। সীমান্ত পুনঃউদ্বোধনের ফলে এই মানবিক সংকট কিছুটা প্রশমিত হবে।

গত ১৯ অক্টোবর কাতারের মধ্যস্থতায় আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান ও আফগান প্রতিনিধিদলের মধ্যে একাধিক বৈঠক কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত পুনঃউদ্বোধনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাকিস্তান সরকার আশা করছে, সীমান্ত আংশিকভাবে পুনরায় খুললে আন্তর্জাতিক ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা কমবে এবং দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সংক্রান্ত উত্তেজনা কিছুটা হ্রাস পাবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্ত খোলার পদক্ষেপ মানবিক সহায়তার পাশাপাশি কূটনৈতিক এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান আফগান জনগণের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না, বরং তারা আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় সাধন করছে। সীমান্ত পুনঃউদ্বোধন ত্রাণ কার্যক্রমকে প্রাধান্য দিচ্ছে, যা আফগান জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বাণিজ্য এখনও স্থগিত থাকা চলমান সমস্যা। সীমান্ত খুললেও পণ্য ও বাণিজ্যিক পণ্য চলাচল পুনরায় শুরু হয়নি। এটি প্রধানত নিরাপত্তাজনিত এবং রাজনৈতিক কারণে নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং বিশেষ করে জাতিসংঘ এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সীমান্ত খোলার ফলে আফগান জনগণকে জরুরি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে, যা তাদের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চূড়ান্তভাবে বলা যায়, প্রায় ৫০ দিন বন্ধ থাকার পর পাকিস্তান কর্তৃপক্ষের এই সীমান্ত পুনঃউদ্বোধন আফগানিস্তানের মানুষের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মানবিক পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক চাপ, সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আফগান জনগণের জন্য ত্রাণ কার্যক্রমের গুরুত্ব বিবেচনা করে পাকিস্তান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে। তোরখাম ও চামান সীমান্তের পুনঃউদ্বোধন মানবিক সংকট প্রশমনে কার্যকর হলেও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের স্থগিত থাকায় সম্পূর্ণ স্বাভাবিক সম্পর্ক এখনও স্থাপিত হয়নি।

আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এই ধরনের পদক্ষেপ ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করতে পারে। সীমান্ত পুনঃউদ্বোধনের ফলে আফগান জনগণ জরুরি ত্রাণ পাবে, এবং সীমান্ত পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি এখন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং মানবিক সহায়তার কার্যকারিতার দিকে রয়েছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান উভয়ই আশা করছে, সীমান্ত আংশিকভাবে খোলার মাধ্যমে তারা ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল এবং সমন্বিত সম্পর্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত