প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত প্রার্থী ও দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ স্থানীয় ভোটারদের সাথে পথসভায় বক্তব্য দেন। সভায় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে ৭১, আর ২৪ সালে আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছি। এই কারণে আমরা আজ মত প্রকাশের স্বাধীনতা পেয়েছি। ৭১ এবং ২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, দুইটাই স্বতন্ত্র।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে ভিন্নমত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, “শেখ পরিবারের শাসনামলে যারা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতো, তাদের নিশ্চিত গুম করতো, জেলে নিতো, আয়না ঘরে বন্দি রাখতো।” হাসনাতের বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নাগরিকরা অনেক বেশি মুক্তভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারছে।
পথসভায় উপস্থিত ভোটারদের উদ্দেশ্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘দেবীদ্বারে আমাদের রাজনীতি শুরু হয়েছিল মাত্র ৫-৭ জন দিয়ে, কিন্তু এখন তা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও বৃদ্ধি পাবে। এই তরুণ প্রজন্ম আমাদের সঙ্গে রয়েছে, এবং তারা তাদের পরিবারসহ আরও অনেকে নিয়ে আসবে।’ তিনি জানান, দলের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ছে। অনেকে গোপনে আবার অনেকে প্রকাশ্যে সম্পর্ক রাখছেন, যার মধ্যে গোপনে সম্পর্ক রাখার কারণ হলো পূর্ববর্তী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং প্রকাশ্যে আসলে অন্যদের অসন্তুষ্টি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ ভোটারদের উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে প্রদত্ত সুবিধাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে মাতৃকালীন ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, সেলাই মেশিন, গরু, চাল, গম, চিনি এবং কর্মসংস্থান এই সবই সরকারের দায়িত্ব, কিন্তু এগুলো সাধারণ মানুষ পাচ্ছে না। বরং চেয়ারম্যান ও মেম্বার এই সুবিধাগুলো ব্যবহার করছে।”
তিনি নির্বাচনী আচরণের অনৈতিকতাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নেতারা নির্বাচনের আগে নতুন পাঞ্জাবি ইস্ত্রি করে রান্নাঘরে ঢুকে ভোটারদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে, কিন্তু নির্বাচনের পর আর দেখা যায় না। তারা শুধু ভোটের সময় আগ্রহী হয়।” গ্যাস সংযোগের প্রতিশ্রুতিকেও তিনি মিথ্যাচার হিসেবে উল্লেখ করেন। হাসনাত জানান, কোনো এমপি বা প্রার্থী ভোট পাওয়ার বিনিময়ে সরাসরি গ্যাস দিতে পারবে না, কারণ সরকার গ্যাস দিয়ে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করে এবং সরাসরি গ্যাস বিতরণ সরকারের ক্ষমতার বাইরে।
সভায় হাসনাত আব্দুল্লাহ তরুণ প্রজন্মের ওপর আস্থা রাখার কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, যে তরুণরা এখন রাজনীতিতে আসছে তারা শুধু তাদের নিজস্ব স্বার্থ নয়, বরং দেশের সুশাসন ও মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দলীয় কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে আরো বেশি ক্ষমতায়িত করা সম্ভব হবে।
হাসনাতের বক্তব্যে স্পষ্ট হয় যে, এনসিপি শুধু নির্বাচনী জয় নয়, বরং সমাজের দরিদ্র ও অসহায় মানুষের অধিকার আদায় এবং সরকারের সঠিক নীতি বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা নিতে চায়। তিনি বলেন, “আমরা চাই সাধারণ মানুষ যেন তাদের অধিকার পায় এবং সরকারিভাবে প্রদত্ত সুবিধাগুলো সঠিকভাবে পৌঁছায়।”
এই পথসভা কেবল নির্বাচনী প্রচারণার অংশ নয়, বরং সমাজে ভ্রান্ত প্রথা ও ক্ষমতার অপব্যবহারকে চিহ্নিত করে জনগণকে সচেতন করার একটি সুযোগ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য তরুণদের সম্পৃক্তি অপরিহার্য।
এনসিপি নেতার বক্তব্যে পরিস্কারভাবে প্রতিফলিত হয়, দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস—‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ’ এবং ‘২৪ সালের ফ্যাসিবাদ মুক্তি’—কেবল রাজনৈতিকভাবে নয়, মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার ভিত্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা চাই, এই স্বাধীনতা বজায় থাকুক এবং মানুষের জীবনে প্রকৃত পরিবর্তন আসুক।”