জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলানীর নামে হলের নামকরণ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩ বার

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন 

জাতীয় পরিচয় ও শিক্ষার ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যোগ হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বি এম আজিজুর রহমান মুকুল নিশ্চিত করেছেন, শেখ পরিবারের নামে থাকা চারটি হলের নাম পরিবর্তন করে নতুনভাবে নামকরণ করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নামকরণ করা হয়েছে শহীদ ফেলানী খাতুনের নামে। ফেলানী খাতুন ছিলেন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত এক শান্তিপ্রিয় বাঙালি নারী, যিনি সীমান্তে ন্যায় ও মানবতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিন্ডিকেটে এই নামকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের মিটিংয়ে শেখ পরিবারের নামে থাকা চারটি হলের নতুন নামকরণকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বের শেখ রাসেল হলের পরিবর্তিত নাম নবাব সলিমুল্লাহ হল, শেখ হাসিনা হলের নতুন নাম জুলাই চব্বিশ জাগরণী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নতুন নাম শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক হল এবং বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নামকরণ শহীদ ফেলানী খাতুন হল হিসেবে করা হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই আলোচিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন, ফেলানী খাতুনের নামে হলের নামকরণ একটি মানবিক ও ন্যায়বিচারমুখী উদাহরণ স্থাপন করেছে। এটি শুধুমাত্র একটি নাম পরিবর্তন নয়, বরং এটি জাতির ইতিহাসে শান্তি ও মানবতার জন্য আত্মত্যাগের মূল্যকে সম্মান জানানোর প্রতীক।

এছাড়া জানা যায়, ছয় মাস আগে শিক্ষার্থীদের দাবি ও সচেতনতার প্রভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শেখ পরিবারের নামে থাকা ছয়টি হলের নামকরণ স্থগিত করেছিল। ছাত্র ও শিক্ষার্থী সমাজের এই দাবিই পরে বাস্তবায়িত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নামকরণের সময় শিক্ষার্থীদের মতামত ও ইতিহাসবিদদের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করেন, হলের নামকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক ও নৈতিক বার্তা বহন করে। ফেলানী খাতুনের জীবনের ঘটনা এবং সীমান্তে মৃত্যুর ইতিহাস নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মানবিক মূল্যবোধকে বিকাশের সুযোগ করে দেবে। এই নামকরণ শুধু শিক্ষাক্ষেত্র নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, নতুন নামকরণ কার্যক্রমটি শীঘ্রই আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হবে। শিক্ষার্থীদের মতে, হলের নামকরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মানবিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি করবে। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতেও এমন উদ্যোগে মানবতার প্রতীককে সম্মানিত করবে।

শহীদ ফেলানী খাতুনের নামকরণ শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নয়, দেশের সামগ্রিক মানবাধিকার চেতনা এবং সীমান্তে নিরপরাধ মানুষদের প্রতি ন্যায়ের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইতিহাসের সঙ্গে মানবিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণ ঘটানোর এক অনন্য উদাহরণ।

এই নামকরণের ফলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেবল শিক্ষার ক্ষেত্রে নয়, বরং সমাজে ন্যায়ের মূল্যবোধ ও মানবিক শিক্ষা সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। শিক্ষার্থীদের মত অনুযায়ী, ফেলানী হলের নামকরণ ভবিষ্যতের প্রজন্মকে নৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা শেখাবে, যা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করবে।

ফলে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নামকরণ উদ্যোগ শুধুমাত্র একটি আধ্যাত্মিক বা প্রতীকী সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধের চেতনা জাগানোর একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত