প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকায় নিযুক্ত ব্রুনাইর হাইকমিশনার হাজি হারিস বিন ওসমান বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় জামায়াত আমীরের বসুন্ধরার কার্যালয়ে। এসময় হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্রুনাই হাইকমিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি রোজাইমি আব্দুল্লাহ।
জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাক্ষাৎকালে উভয়পক্ষের মধ্যে আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করেছিল। আলোচনার মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের ২৪-এর গণবিপ্লব ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামীর অংশগ্রহণ এবং এর গঠনমূলক ভূমিকা। ডা. শফিকুর রহমান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন কীভাবে দলটি বিভিন্ন সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংবিধান রক্ষা ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
উভয়পক্ষের মধ্যে কথোপকথনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। ব্রুনাই হাইকমিশনার জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও দলগুলোর দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে নজরকাড়া এবং দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
ডা. শফিকুর রহমানও ব্রুনাই হাইকমিশনারকে জানান, জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য হলো দেশের সংবিধান রক্ষা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা এবং সমাজে ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি রাজনৈতিক সহমর্মিতা, সংলাপ এবং সংবিধান মেনে চলার মাধ্যমে দেশকে উন্নতির পথে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।”
সাক্ষাৎকালে দু’পক্ষই দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। ব্রুনাই হাইকমিশনার জামায়াতের সঙ্গে স্থিতিশীল ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ ও বোঝাপড়া বৃদ্ধি পেলে তা কেবল রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে দুই দেশের জন্যও উপকারী হবে।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডা. শফিকুর রহমান সাক্ষাৎকালে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের পাশাপাশি দেশের সমাজে শান্তি, সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্বেও আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব শুধুমাত্র ক্ষমতা অর্জন নয়, বরং জনগণের কল্যাণে অবদান রাখা।
এই সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জামায়াতের অংশগ্রহণ, দেশের সংবিধান রক্ষা, শান্তি ও সামাজিক দায়িত্ববোধের বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে গভীর ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। ব্রুনাই হাইকমিশনারও এই অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন এবং দুই দেশের রাজনৈতিক সংলাপকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
জামায়াতের এক কর্মকর্তা বলেন, এই সাক্ষাৎ কেবলই বন্ধুত্বপূর্ণ নয়, বরং দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার দিকনির্দেশক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এই ধরনের সংলাপ নিয়মিতভাবে হবে এবং দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি পাবে।”
সাক্ষাৎ শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে দলের গঠনমূলক ভূমিকা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “এই ধরনের সাক্ষাৎ দেশের রাজনৈতিক সংলাপকে আরও উন্মুক্ত ও দায়িত্বশীল করতে সাহায্য করবে।”
এই সাক্ষাৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক দুনিয়ায় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক সংলাপ ও দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়া দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।