প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আজও শিক্ষাভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে তারা অবস্থান নিয়েছেন এবং অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত কিছুদিন ধরে তারা ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন। শনিবার ও রোববার রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ করে তারা সরকারের প্রতি তাদের দাবি জানিয়েছিলেন। জনদুর্ভোগ এড়াতে অবরোধ কিছু সময়ের জন্য তুলে নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা শিক্ষা ভবনের সামনেই অবস্থান বজায় রাখেন। রাত জাগরণ ও অবিরাম অবস্থানের মধ্য দিয়ে তারা সরকারকে স্পষ্ট সংকেত দিচ্ছেন যে, অধ্যাদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত তারা শান্তিপূর্ণ অবস্থান ছাড়বেন না।
গত ১২ নভেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সাতটি কলেজকে একীভূত করে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। একই সময়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট সাত কলেজের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরপরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। তারা জানাচ্ছেন, অধ্যাদেশ জারি না হলে তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।
শিক্ষার্থীদের একজন জানান, “আমরা চাই এই বিশ্ববিদ্যালয়টি দ্রুত প্রতিষ্ঠিত হোক এবং অধ্যাদেশ জারি হোক। এটি আমাদের শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ, কিন্তু অধ্যাদেশ না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের অবস্থান ছাড়বো না।” শিক্ষার্থীদের এই দৃঢ়তা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, যাতে তারা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিক্ষাভবনের সামনে অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে অনেকে তাঁবু বসিয়ে রাত কাটাচ্ছেন, অন্যরা জলপান ও খাবারের ব্যবস্থা নিজেদের মধ্যে মিলিয়ে নিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা করা এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় এই ধরনের পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। সাত কলেজকে একত্রিত করে একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি করার পাশাপাশি প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা করছেন যে, অধ্যাদেশ জারি না হলে শিক্ষার স্থায়িত্ব, পরীক্ষা ও ডিগ্রির স্বীকৃতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের কারণগুলো সরকারের উচিত দ্রুত সমাধান করা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও মতামত নেওয়া উচিত, যাতে যেকোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর ও গ্রহণযোগ্য হয়।
অপর দিকে, সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছেন, অধ্যাদেশ প্রক্রিয়া সমাপ্তি পর্যায়ে আছে এবং খুব শিগগিরই এটি জারি হবে। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য সকল সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করবে এবং শিক্ষার মান উন্নত হবে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থানীয় ও সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ ও শিক্ষাব্যক্তিরাও শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। অনেকে মনে করছেন, শিক্ষার্থীরা তাদের অধিকার ও ভবিষ্যতের জন্য সচেতনভাবে এগিয়ে আসছে, যা প্রশংসনীয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসনও শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় তৈরি করা হয়েছে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে না পারে।
অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ শিক্ষার প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা এবং সামাজিক সচেতনতার প্রতিফলন। তারা বলছেন, “আমরা চাই শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত হোক, কোনো শিক্ষার্থী যেন অসুবিধায় না পড়ে। আমাদের আন্দোলন শুধুমাত্র অধ্যাদেশ জারি হওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।”
নিরীক্ষকরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন শিক্ষানীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। এটি প্রমাণ করছে যে, শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্যই নয়, বরং স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ প্রশাসনিক ব্যবস্থার জন্যও সচেতন।
শিক্ষার্থীদের অবস্থান ও আন্দোলন অব্যাহত থাকায় শিক্ষা ভবনের আশেপাশে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে কোনো ধরনের সহিংসতা বা সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য সকল পক্ষই সতর্ক। আন্দোলনটি এখন শান্তিপূর্ণ, সংগঠিত এবং শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অবশেষে বলা যায়, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ জারি করা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি। এই আন্দোলন শুধু একটি শিক্ষানীতি বিষয়ক দাবি নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত নিশ্চিত করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পদক্ষেপ হিসেবেও গণ্য হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা প্রত্যেকদিন শিক্ষাভবনের সামনে অবস্থান করে সরকারের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠাচ্ছেন—অধ্যাদেশ ছাড়া কোনো সমাধান গ্রহণযোগ্য নয়।