প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি জিততে পারেনি নিউজিল্যান্ড। ক্যারিবীয় ব্যাটার জাস্টিন গ্রেভসের দুরন্ত ডাবল সেঞ্চুরি এবং শাই হোপের দৃঢ় সেঞ্চুরি কিউইদের জয় কেড়ে নিয়েছে প্রায় হাতের মুঠো থেকে। শুধু ম্যাচ হারাই নয়, সিরিজের বাকি অংশে আরও বড় ধাক্কা খেল স্বাগতিকরা। এক সঙ্গে তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে হারিয়েছে তারা, যা পুরো স্কোয়াডের ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ম্যাচের চতুর্থ দিনে বল করতে এসে নিজের রানআপের মাঝপথে হঠাৎই ডান পায়ের কাফে ব্যথা অনুভব করেন কাইল হেনরি। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বুঝে ফেলেছিলেন সমস্যা সাধারণ কিছু নয়। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মাঠ ছাড়তে হয়। পরে স্ক্যান রিপোর্টে নিশ্চিত হয়, তার কাফ মাংসপেশিতে ছিঁড়ে যাওয়ার মতো গুরুতর চোট হয়েছে। এবার পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেলেন ডানহাতি এই অভিজ্ঞ পেসার। নিউজিল্যান্ড দলের সবচেয়ে আস্থার প্রতীক এই পেসার জানুয়ারিতে ফিরতে লড়াই শুরু করেছেন। কিন্তু তার অনুপস্থিতি এ সিরিজে কিউইদের বোলিং আক্রমণকে নিঃসন্দেহে দুর্বল করবে।
দলে দ্বিতীয় বড় ধাক্কা আসে স্মিথের চোটে। সিরিজের দ্বিতীয় দিনে ফিল্ডিং করতে গিয়ে তিনি সাইড স্ট্রেইনে আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ তাকে মাঠের বাইরে থাকতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তিনি ব্যাটিং অনুশীলনে ফিরতে না পারলেও পারছেন না বোলিং বা পূর্ণ ফিটনেস কার্যক্রমে যুক্ত হতে। তার জায়গা পূরণ করতে নিউজিল্যান্ড ব্যবস্থাপনা বিকল্প খুঁজছে। কিন্তু স্মিথের অভিজ্ঞতা এবং ধারাবাহিকতা তাদের জন্য বড় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার মিচেলও দলে ফেরা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পুরোপুরি ম্যাচ ফিট নন বলে জানানো হয়েছে। ব্যাটিং এবং বোলিং অনুশীলনে সমস্যা না থাকলেও দৌড়ানো ও পাশের দিকে নড়াচড়ায় এখনো ঝুঁকির উপাদান রয়েছে। কোচিং স্টাফরা জানিয়েছেন, মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তাই ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে। তাকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টের আগ মুহূর্তে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের ড্র নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় হতাশা হয়ে এসেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু গ্রেভসের অসাধারণ ডাবল সেঞ্চুরি যেন পুরো ম্যাচের গতিপথ বদলে দেয়। টেস্ট ক্রিকেটে ক্যারিবীয়দের সেই হারানো দৃঢ়তার ঝলক দেখা গেছে তার ব্যাটে। শাই হোপও নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেছেন সেঞ্চুরি করে। তাদের জুটির ওপর নির্ভর করেই শক্ত প্রতিরোধ গড়ে শেষ পর্যন্ত ড্র বের করে নিতে সক্ষম হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
নিউজিল্যান্ড দল এখন গভীর ভাবনায়। কারণ সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হচ্ছে খুবই দ্রুত, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে। চোটে জর্জরিত দলে বোলিং আক্রমণকে জায়গা ধরে রাখতে বাড়তি চাপে পড়তে হবে তরুণ বোলারদের। বিশেষ করে হেনরি ও স্মিথের অনুপস্থিতি দলের গতি ও বৈচিত্র্য কমিয়ে দিয়েছে। তৃতীয় ও শেষ টেস্ট ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে টাওরাঙ্গার বে ওভালে। এই সময়ের মধ্যেই তাদের দল গোছাতে হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিরিজ নিউজিল্যান্ডের জন্য আরেকটি পরীক্ষা। যারা নিয়মিত খেলছেন তাদের ওপর চাপ বাড়বে স্বাভাবিকভাবেই। তবুও দলের আত্মবিশ্বাস এখনো নড়বড়ে হয়ে যায়নি। তরুণরা যদি সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে পারে, তবে সংকট সামলে উঠতে পারবে কিউইরা। দলীয় ব্যবস্থাপনা ইতোমধ্যে বিকল্প বোলার হিসেবে ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে কয়েকজনকে বিবেচনায় নেওয়া শুরু করেছে।
ক্রাইস্টচার্চ টেস্ট নিউজিল্যান্ডের জন্য যেমন হারানো সুযোগ, তেমনি বাকি সিরিজের আগে সতর্কবার্তা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটাররা যে ভয়ংকর হতে পারে তার প্রমাণ প্রথম টেস্টেই দিয়েছে। এখন নিউজিল্যান্ডকে পুরো দলগত শক্তি দিয়েই সিরিজ বাঁচানোর লড়াইয়ে নামতে হবে। চোটের আঘাত দলে যে বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে দ্রুত। অন্যথায় বাকি দুই টেস্টে তাদের লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ক্রিকেটপ্রেমী নিউজিল্যান্ডবাসীও স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন তিন তারকার চোটে। মাঠে দারুণ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তাদের উপস্থিতি সবসময়ই দলের স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক ছিল। এখন তাদের ছাড়া কিউইদের কীভাবে সামাল দিতে হয়, সেটিই দেখার বিষয়।