আমদানির খবরে হিলি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমে স্বস্তি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬১ বার
পেঁয়াজের দাম

প্রকাশ: ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির কার্যক্রম আবার শুরু হওয়ার পর বাজারে দ্রুত প্রভাব পড়েছে। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমে এসেছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির চাপে নাকাল সাধারণ মানুষের মুখে তাই ফের দেখা গেছে স্বস্তির হাসি। হিলির বাজারে এখন ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকায়, আর দেশি পেঁয়াজ ৯০ টাকার কাছাকাছি নেমে এসেছে। দুই সপ্তাহ আগেও যে পেঁয়াজের দাম ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে ছিল, সেই একই পণ্য এখন তুলনামূলক অনেক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

সোমবার দুপুরে হিলির বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবজির দোকানগুলোতে এখন পেঁয়াজের সরবরাহ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। দোকানিদের কথায় স্পষ্ট—সরবরাহের উন্নতি হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে আমদানির অনুমতি মিলতেই পাইকারি বাজারে দাম দ্রুত কমে এসেছে। দীর্ঘ তিন মাস ধরে বন্ধ থাকা আমদানি পুনরায় চালুর খবর বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলেই মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

হিলির পেঁয়াজ ব্যবসায়ী বিপ্লব জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে উর্ধ্বমুখী ছিল। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও ৭০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ কয়েক দফায় দাম বাড়তে বাড়তে ১৩০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। তিনি বলেন, পাইকারিতে পেঁয়াজ কম দামে পাওয়া শুরু হওয়ায় এখন তারা তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে পারছেন। এতে তাদের বিক্রিও বেড়ে গেছে।

আরেক ব্যবসায়ী মনি জানান, দেশি পেঁয়াজের উপর পুরোপুরিভাবে নির্ভর করেই তারা ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন দীর্ঘ তিন মাস। পাবনা ও অন্যান্য জেলা থেকে আরতদাররা যে পেঁয়াজ সংগ্রহ করে সরবরাহ করত, সেই পণ্যই খুচরা ও পাইকারি বাজারে দামের ওপর চাপ তৈরি করেছিল। ভারতীয় পেঁয়াজ বাজারে আসার সম্ভাবনা তৈরি হতেই সেই চাপ কিছুটা কমে এসেছে।

হিলির স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানিতে জড়িত ব্যবসায়ীরা জানান, সরকার সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত দেওয়ার পর ইন্টারনেট প্রোটোকল (আইপি) সরবরাহ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন ৫০ জন আমদানিকারকের জন্য ৩০ মেট্রিক টন করে আইপি বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। যারা আজ আবেদন করতে পারেননি, তারা পরের দিন আবেদন করার সুযোগ পাবেন। তবে সার্ভার লোডের কারণে অনেকেই আবেদন করতে না পেরে অপেক্ষায় ছিলেন বলেও ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।

হিলি স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, আইপি বরাদ্দের প্রক্রিয়া পুরোপুরি অনলাইনভিত্তিক এবং সেটির একটি নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। প্রতিদিন নির্ধারিত সংখ্যক আবেদন গ্রহণ করা হলে সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বাকি ব্যবসায়ীরা পরের দিন আবেদন করতে পারবেন। তিনি জানান, প্রতিটি আইপি ধারক ৩০ মেট্রিক টন করে পেঁয়াজ আমদানি করতে পারবেন।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

হিলি স্থলবন্দর দিয়ে সর্বশেষ ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল ৩০ আগস্ট। দেশীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার কারণ দেখিয়ে এরপর আমদানি বন্ধ রাখা হয়। তবে বাজারে লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকার পুনরায় আমদানির অনুমতি দেয়। এরই অংশ হিসেবে রোববার প্রথম দিন চারজন আমদানিকারক মোট ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পান, যার মধ্যে একজন আমদানিকারক ৩০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ দেশে আনেন।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আমদানি কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চলতে থাকলে পেঁয়াজের বাজার আরও স্থিতিশীল হবে। এ ছাড়া সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কিছুটা কমার সম্ভাবনাও আছে। ক্রেতারা আশাবাদী, অন্তত আগামী কয়েক সপ্তাহ পেঁয়াজের বাজারে আর অস্থিরতা তৈরি হবে না।

হিলির বাজারে কথা হয় কয়েকজন সাধারণ ক্রেতার সঙ্গে। তারা জানান, গত কয়েক মাস ধরে পেঁয়াজের উচ্চমূল্য তাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছিল। এখন দাম কমে আসায় তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছেন। অনেকেই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এ কমতি যেন স্থায়ী হয় এবং বাজারে যেন আবারও অস্থিরতা তৈরি না হয়।

সব মিলিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি বাজারে স্বস্তি ফিরিয়েছে। আমদানি প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিয়মিতভাবে চালু থাকলে পেঁয়াজের দাম আরও স্থিতিশীল হওয়ার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতা উভয়ই। এদিকে সরকারও পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে, যাতে বাজার আর কোনোভাবেই অস্থিতিশীল না হয় এবং জনগণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ে অতিরিক্ত চাপের মুখে না পড়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত