প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে এ বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজের ফলন আশানুরূপ হয়েছে এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাওয়ায় চাষিরা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি লাভবান হচ্ছেন। শীতকাল শুরু হতেই উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে চাষিরা মৌসুমী এই পেঁয়াজের আবাদ শুরু করেন। দরবস্ত, কোচাশহর, গুমানিগঞ্জ, কামারদহ, রাজাহার, ফুলবাড়ী, তালুককানুপুর ও রাখালবুরুজ ইউনিয়নসহ পৌরসভা এলাকায় চলতি মৌসুমে মোট সাড়ে ছয় হেক্টর জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাষ হয়েছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, মৌসুমের শুরুতে কাঁচাপাতা বিক্রি হলেও বর্তমানে গাছ বড় হয়ে যাওয়ায় পেঁয়াজের মূল অংশসহ পাতারও বাজারজাত হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সার্বক্ষণিক তদারকি, মাঠ পর্যায়ে পরামর্শ এবং সঠিক সময়ে সার, সেচ ও পরিচর্যার ফলে এই মৌসুমে পেঁয়াজের ভালো ফলন হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, আবহাওয়ার প্রতিকূলতা, সার ও বীজের উচ্চমূল্য সত্ত্বেও তারা এবার ভাল মুনাফা পাচ্ছেন।
মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পেঁয়াজ দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার টাকার কাছাকাছি। কৃষকরা বলেন, এ ধরনের দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারায় তাদের খুশি ও সন্তুষ্টি প্রকাশযোগ্য। তবে বাজারে বিভিন্ন কৃষি উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদনের ব্যয়ও বেড়েছে, যা তাদের লাভের পরিমাণে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, “পেঁয়াজের চাষ বৃদ্ধির জন্য আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করেছি। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের আস্থাও বাড়িয়েছে এবং আগামীতে পেঁয়াজের উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করে দেশে পেঁয়াজ আমদানি নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে।” তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি বিভাগের লক্ষ্য, সঠিক পরামর্শ ও সহায়তার মাধ্যমে পেঁয়াজ চাষে নতুন উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা এবং উৎপাদনের মান উন্নত করা।
কৃষকরা বলেন, মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন ও ভালো বাজারমূল্য তাদের জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এ ধরনের ফলন ও বাজার দামের ধারাবাহিকতা থাকলে আগামী মৌসুমেও তারা আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষে মনোযোগ দেবেন। উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে চালানো প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ কার্যক্রমও কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে, যা পুরো এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করছে।
স্থানীয় বাজার ও পাইকারি হোলসেল বাজারে মুড়িকাটা পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে এবং এ কারণে চাষিরা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজকে সঠিক দামে বিক্রি করতে পারছেন। কৃষকরা জানান, শীতকালে এই পেঁয়াজের চাহিদা সাধারণ চেয়ে বেশি থাকে। এতে তাদের লাভের পরিমাণও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়। এ অবস্থায় তারা নতুন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও পরিচর্যা পদ্ধতি অনুসরণ করে আরও ভালো ফলনের আশা করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে উদ্যোক্তা ও নতুন চাষিরাও রয়েছেন। তাদের জন্য কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের সহায়তা ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সঠিক পরিকল্পনা ও পরামর্শের মাধ্যমে পেঁয়াজ চাষে উচ্চ ফলন ও লাভ নিশ্চিত করা সম্ভব।
মো. মেহেদী হাসান বলেন, “আমরা কৃষকদের সঠিক সময়ে সার, বীজ ও পরিচর্যার পরামর্শ দিয়ে থাকি। এ ধরনের উদ্যোগ কৃষকদের উৎসাহিত করছে এবং তারা নতুন চাষ ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আগ্রহী হচ্ছে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এভাবে উপজেলা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পেঁয়াজের চাষ বাড়ানো সম্ভব হবে, যা দেশের বাজারে পেঁয়াজের অভাব কমাতে সহায়তা করবে।
মৌসুমের এ অবস্থায় মুড়িকাটা পেঁয়াজের বাম্পার ফলন ও ভালো বাজারমূল্য গাইবান্ধার কৃষকদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে। কৃষকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ফলন ও বাজারমূল্য ধারাবাহিক থাকলে তারা আরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষে মনোযোগ দেবেন এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় অবদান রাখবেন।