টোকিওয়ের আকাশে চীন-রাশিয়ার যৌথ বোমারু বিমান তৎপরতা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৮ বার
রাশিয়ান টিইউ-৯৫ বোমারু বিমান পূর্ব চীন সাগরের উপর দিয়ে উড়ছে

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাপানের চারপাশে রাশিয়া ও চীনের যৌথ বোমারু বিমান টহলের ঘটনায় সামরিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে ইতিমধ্যেই তিক্ত সম্পর্ক থাকায় এই সামরিক কর্মকাণ্ড জাপানের জাতীয় নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণকে তৎপর করেছে। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার রাতের ঘোষণা অনুযায়ী, রাশিয়ার দুটি টিইউ–৯৫ পারমাণবিক সক্ষম বোমারু বিমান জাপান সাগর থেকে পূর্ব চীন সাগরের দিকে অগ্রসর হয়ে চীনের দুটি এইচ–৬ বোমারু বিমানের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগরে দীর্ঘ সময় যৌথ টহলে অংশ নেয়।

পরবর্তীতে চীনের চারটি জে–১৬ যুদ্ধবিমান এই বাহিনীতে যোগ দেয় এবং তারা বারবার ওকিনাওয়া ও মিয়াকো দ্বীপের মধ্যে আন্তর্জাতিক মিয়াকো প্রণালিতে যাতায়াত করে। একই সময়ে জাপান সাগরে রাশিয়ার আরও সামরিক বিমান শনাক্ত করা হয়, যার মধ্যে একটি এ–৫০ সতর্কীকরণ বিমান এবং দুটি এসইউ–৩০ যুদ্ধবিমান ছিল। জাপান অবিলম্বে আকাশ প্রতিরক্ষার জন্য তাদের যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে এবং আন্তর্জাতিক আকাশসীমার নিয়ম অনুযায়ী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি সামাজিকমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, রাশিয়া ও চীনের এই যৌথ অভিযান জাপানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। এটি টোকিওর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং জাপান পরিস্থিতি অনুযায়ী সব প্রতিরক্ষাবিধি যথাযথভাবে পালন করেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া–চীনের যৌথ টহল প্রায় আট ঘণ্টা স্থায়ী হয়। এ সময় দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ অঞ্চলেও সাতটি রাশিয়ান ও দুটি চীনা বিমান শনাক্ত করা হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি শুধু একটি সামরিক প্রদর্শন নয়, বরং জাপান এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তারের কৌশল। সাম্প্রতিক সময়ে চীন এবং রাশিয়া বিভিন্ন অঞ্চলে তাদের সামরিক সহযোগিতা জোরদার করছে। বিশেষ করে তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে চীনের যে কোনো পদক্ষেপ যদি জাপানের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ হয়, টোকিও তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত বলে গত মাসে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সতর্কতা জারি করেছিলেন।

জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এমন ধরনের যৌথ সামরিক কার্যক্রমকে নজরে রাখবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আকাশসীমা সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়া ও চীনের এই যৌথ টহল পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং এই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক নৌপথেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

বিশ্ব রাজনীতির পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের জন্য এটি একটি সতর্কবার্তা। টোকিও ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে এবং তাদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। সামরিক ও কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পূর্ব এশিয়ার এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সতর্ক রয়েছে। যৌথ বোমারু বিমান টহলের ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে এবং তা জাপানের নিরাপত্তা কৌশল ও প্রতিরক্ষা নীতি আরও জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com