ঢাকা-৯ আসনে লড়বেন ডা. তাসনিম জারা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৯ বার
ডা. তাসনিম জারা

প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে ঢাকা-৯ আসন থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। বুধবার সকাল ১১টায় দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। ঢাকা-৯ আসনটির মধ্যে খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা ও মান্ডা এলাকা অন্তর্ভুক্ত।

ডা. তাসনিম জারা ইতিমধ্যে এই আসনের নির্বাচনী প্রচারে দেশের যেকোনো প্রান্তের ভোটার এবং প্রবাসীদের সহযোগিতা চেয়েছেন। নির্বাচনী কার্যক্রমে তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন যে তার প্রচারনায় খরচ আইনের সীমার মধ্যে থাকবে। শনিবার ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশের প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রায়শই আইনের অনুমোদিত ২৫ লাখ টাকার বাইরে কোটি কোটি টাকা খরচ করেন, অথচ কমিশনের কাছে তা কম দেখানোর চেষ্টা করেন। তিনি ঘোষণা করেছেন যে এই প্রার্থীতা চলাকালে তিনি এক টাকাও নির্ধারিত সীমার বাইরে খরচ করবেন না।

ডা. জারা বলেন, “আমি এই অসততা ও মিথ্যার রাজনীতি করব না। আমি বিশ্বাস করি, জনগণকে প্রকৃত সেবা ও স্বচ্ছ নীতিতে প্রার্থী নির্বাচন করতে হবে। আমাদের দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে সকল প্রার্থীকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।”

জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, ঢাকা-৯ আসনে ডা. জারার মনোনয়ন প্রদর্শন করছে দলের নবীন প্রজন্ম ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্বকে নেতৃত্বের মূল অঙ্গ হিসেবে গ্রহণের অঙ্গীকার। দলটি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্বের বাইরে পেশাজীবী, শিক্ষিত ও নৈতিক প্রার্থীদের প্রাধান্য দিয়ে আসছে।

এনসিপি সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নের জন্য আবেদনের সময়সীমা ২০ নভেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যাতে সমস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশীরা অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এর ফলে দেশব্যাপী প্রায় ১ হাজার ৪৮৪ জন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। প্রার্থী তালিকার ঘোষণার মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের চূড়ান্ত করে দিয়েছে।

রাজনীতিবিদরা মনে করছেন, ডা. তাসনিম জারার স্বচ্ছ ও সীমাবদ্ধ বাজেটের প্রতিশ্রুতি নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের প্রতিশ্রুতিমূলক আচরণ দেশের নির্বাচনী সংস্কৃতিতে সততা ও নৈতিকতার উদাহরণ স্থাপন করবে। এদিকে, ঢাকা-৯ আসনটি ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যেখানে জনসংখ্যা ঘনত্ব ও সামাজিক বৈচিত্র্য বেশি। এই আসন থেকে নির্বাচিত হলে ডা. জারা জনগণের সার্বিক কল্যাণ, শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসেবা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে তরুণ, শিক্ষিত ও নীতিনিষ্ঠ প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটারদের কাছে নতুন উদ্দীপনা জোগাচ্ছে। ডা. জারার মত প্রার্থীরা যারা অর্থের প্রলোভনে রাজনীতি নয়, বরং নীতি ও পরিষ্কার মনোভাবকে নেতৃত্বের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করছেন, তারা নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারেন।

ঢাকা-৯ আসন থেকে ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনী প্রচার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করছেন এবং এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তিনি সচেতনভাবে প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন যাতে নির্বাচনী ব্যয় সীমাবদ্ধ থাকে, তবুও প্রচারণা কার্যকর হয়।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের স্বচ্ছ প্রচারণা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটাররা এখন আরও বেশি সচেতন এবং তারা নৈতিক ও দায়িত্বশীল প্রার্থীর দিকে আকৃষ্ট হচ্ছেন।

ডা. জারার নির্বাচনী প্রচার চলাকালে ভোটারদেরকে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগ শুধু নির্বাচনকে স্বচ্ছ রাখছে না, বরং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতেও সহায়ক হচ্ছে। এনসিপি আশা করছে, ডা. জারার নেতৃত্বে ঢাকা-৯ আসন থেকে সংসদে ন্যায্য ও নীতিনিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত