প্রকাশ: ০৯ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জের সোনাপাহাড় এলাকায় নিষিদ্ধ মেলখুম ট্রেইলে ঘুরতে গিয়ে দুই তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এই পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গিয়ে তারা প্রাণ হারান, আহত হন আরও তিনজন। নিহত দুই তরুণের নাম গালিব (২২) ও হৃদয় (২২)। আহতরা হলেন মোহাম্মদ মিয়া, রায়হান এবং ফাহিম। তাদেরকে মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে।
বারইয়ারহাট ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন তিতাস গণমাধ্যমকে জানান, পাঁচ তরুণ মঙ্গলবার সকালে ফেনী থেকে মীরসরাইয়ের সোনাপাহাড়ের দিকে রওনা দেন। পরবর্তীতে স্থানীয় আরও দুজন তাদের সঙ্গে যুক্ত হন। তাদের গন্তব্য ছিল মেলখুম ট্রেইল—একটি পাহাড়ি এলাকা যেটি আগে থেকেই ভ্রমণের জন্য সরকারি নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। এই ট্রেইলে কয়েক বছর আগে পর্যটক মৃত্যুর ঘটনার পর প্রশাসন চলাচলে কঠোর নিষেধ আরোপ করে।
তবে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তারা এই ট্রেইলে প্রবেশ করেন। দিন শেষে তারা ফিরে না আসায় বুধবার সকালে তাদের সন্ধানে অভিযান শুরু হয়। দুপুর আড়াইটার দিকে উদ্ধারকর্মীরা গালিব ও হৃদয়ের মরদেহ উদ্ধার করে এবং আহত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
মীরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাজু সিংহ জানান, আহতদের শরীরে মারাত্মক আঘাত রয়েছে এবং তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পূর্বঘোষিত সতর্কতা ও নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম বলেন, “এই এলাকা আগেই পর্যটকদের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এটি মানব চলাচলের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। কেউ যেন এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে আর ভ্রমণে না যায়, সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, মেলখুম ট্রেইল মূলত ট্রেকিং ও অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ও ফটোর মাধ্যমে। কিন্তু জায়গাটি প্রাকৃতিকভাবে এতটাই বিপজ্জনক যে সামান্য অসতর্কতায় প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। প্রশাসনের একাধিকবার সতর্কতা জারির পরেও একশ্রেণির পর্যটক উদ্যমী হয়ে সেখানে গমন করছেন, যা অবশেষে প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়াল।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করছেন এবং প্রশাসনের প্রতি আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানাচ্ছেন। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে—যেখানে পূর্বঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল, সেখানে কীভাবে পর্যটকেরা প্রবেশ করলো? স্থানীয়দের মতে, এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসনকে যেমন আরও কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে, তেমনি পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে নিজের জীবনের নিরাপত্তা সম্পর্কে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে অসচেতনতা ও অবহেলা কতটা ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনতে পারে। পর্যটনপ্রেমীদের কাছে প্রশাসনের বার্তা একটাই—নিষিদ্ধ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নয়, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কোনো রকম ‘অ্যাডভেঞ্চার’ নয়।