প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর ও ধনবাড়ী) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীকে ঘিরে দলীয় ঐক্যে ভাঙন দেখা দিয়েছে; তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া, বিক্ষোভ ও ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি টাঙ্গাইল-১ আসনে নির্বাহী কমিটির সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপনকে মনোনয়ন দিয়েছে। ৩ নভেম্বর দলের ঘোষিত মনোনয়ন তালিকায় টাঙ্গাইল জেলার আটটির মধ্যে সাত আসনে প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়। ঘোষণার পর কিছু নেতাকর্মী সমর্থন জানালেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। বহু স্থানীয় নেতা মনে করছেন, স্বপনের তৃণমূল জনপ্রিয়তা পর্যাপ্ত নয়; ফলে ভোটারদের মাঝে তার গ্রহণযোগ্যতা কম হতে পারে। এই সন্দেহ থেকেই আন্দোলন শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
মনোনয়ন না পাওয়া কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের সমর্থকেরা বিক্ষোভ, সমাবেশ ও মিছিল করে প্রত্যাহারের দাবি তুলছেন। বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় সভা করে তারা ফকির মাহবুব আনাম স্বপনের মনোনয়ন বাতিল করে নতুন প্রার্থী ঘোষণার আহ্বান জানায়। এতে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও বিভাজন তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, মনোনয়নপ্রক্রিয়ায় ভুল সিদ্ধান্তের ফলে দলের ঐক্য দুর্বল হচ্ছে এবং ভোটারদের মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। অনেক নেতা বলছেন, দলের এই অভ্যন্তরীণ সংকট কর্মীদের মনোবলও নষ্ট করছে। যদিও মনোনয়ন পাওয়া স্বপন ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, তৃণমূল নেতাদের ক্ষোভ এখনো কমেনি।
এদিকে টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনও একক প্রার্থী দিয়ে প্রচারণা শুরু করেছে। জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে জেলা কর্মপরিষদের সদস্য সাবেক অধ্যক্ষ মো. মোন্তাজ আলীকে। তাঁদের দাবি—সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তাঁরা জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তারা নৈতিক মূল্যবোধ ও সংগঠনের বার্তা তুলে ধরছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই মনোনয়ন সংকট দলটির অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকে প্রকাশ করছে। স্পষ্টতা না থাকলে ভোটারদের মনেও দ্বিধা তৈরি হবে, যা নির্বাচনের ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে। সামগ্রিকভাবে এই মনোনয়ন বিতর্ক শুধু দলীয় কাঠামোর বিরোধ নয়—এটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে দলের কৌশল, নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের অবস্থানের প্রতিফলন।