ট্রাম্পের ‘গোল্ড কার্ড’ ভিসা: ধনী বিদেশিদের নাগরিকত্বের দ্রুত সুযোগ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬১ বার
গোল্ড কার্ড’ ভিসা

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে চালু করেছেন নতুন “গোল্ড কার্ড” ভিসা প্রকল্প। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বের ধনী, উচ্চ দক্ষ ও প্রভাবশালী বিদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত ভিসা, স্থায়ী বাসস্থান এবং ধাপে ধাপে নাগরিকত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা। প্রকল্পটি ঘোষণার পর থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির নতুন দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা দেন যে এই গোল্ড কার্ড ভিসা বিদেশি বিনিয়োগকারী এবং যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্বের “সরাসরি পথ” তৈরি করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও প্রযুক্তি খাতে অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি প্রতিভা ধরে রাখতে সাহায্য করবে এবং আমেরিকার উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নতুন একটি ধাপ যোগ করবে। এই ভিসার সুবিধা পেতে হলে যোগ্য আবেদনকারীকে সর্বনিম্ন এক মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হবে। এর পাশাপাশি কর্পোরেট সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে দুই মিলিয়ন ডলার।

উদ্যোগটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত EB-5 বিনিয়োগকারী ভিসা প্রোগ্রামের একটি সংশোধিত রূপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। EB-5 প্রোগ্রামে আগে আমেরিকান ব্যবসায়ে বিনিয়োগ ও চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করার ভিত্তিতে বিদেশিদের স্থায়ী বাসস্থান দেওয়া হতো। কিন্তু নতুন গোল্ড কার্ড ভিসার ক্ষেত্রে চাকরি তৈরির বাধ্যবাধকতা কিছুটা শিথিল করা হয়েছে এবং তুলনামূলক সহজ প্রক্রিয়ায় বিনিয়োগকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকরা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তীতে মার্কিন নাগরিকত্বের জন্যও আবেদন করতে পারবেন।

তবে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ব্যাপক সমালোচনাও দেখা দিয়েছে। বহু ডেমোক্র্যাট নেতাসহ বিশ্লেষকদের অভিযোগ, এই প্রকল্পটি মূলত ধনীদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরি করছে, যা সাধারণ অভিবাসী বা শরণার্থীদের ক্ষেত্রে কোনোভাবেই প্রদান করা হয় না। তাদের মতে, নতুন অভিবাসন নীতির ফলে ধনীরা অর্থ খরচ করে সহজেই নাগরিকত্বের পথে এগিয়ে যেতে পারবে, অথচ সাধারণ মানুষের ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া দিন দিন জটিল ও দীর্ঘ হচ্ছে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন একই সময়ে অভিবাসন নীতি কঠোর করেছে, যার মধ্যে রয়েছে কর্মী ভিসা ফি বৃদ্ধি, অননুমোদিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, এমনকি বহু দেশের অভিবাসন আবেদন স্থগিত করার মতো সিদ্ধান্ত। আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ১৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আবেদন স্থগিত করার কারণে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা আরও তীব্র হয়েছে। সমালোচকদের ধারণা, একদিকে কঠোরতা আরোপ এবং অন্যদিকে ধনীদের জন্য বিশেষ সুযোগ তৈরির মধ্য দিয়ে দ্বৈত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

গোল্ড কার্ড ভিসা প্রোগ্রামের সমর্থকরা বলছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মার্কিন কোম্পানির সম্ভাবনা বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অত্যাধুনিক গবেষণায় প্রতিযোগিতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে এই প্রোগ্রামটি সহায়ক হবে বলে তারা মনে করেন। তাদের যুক্তি, বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা বাড়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিভাবান ও ধনী বিদেশিদের আকৃষ্ট করার সুযোগ তৈরি করতেই হবে।

বাংলাদেশের বড় দুশ্চিন্তা ব্যাটিং

অন্যদিকে বিরোধীদের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাকে অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব প্রদানের পথে নিয়ে যাওয়া দীর্ঘমেয়াদে আইনগত, নৈতিক এবং সামাজিক সংকটে ফেলবে। নাগরিকত্ব কোনো পণ্য নয়, বরং এটি একটি মৌলিক অধিকার। ফলে শুধুমাত্র অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে নাগরিকত্বের পথ উন্মুক্ত করা গণতান্ত্রিক ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

এই প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি ও বিশ্ব রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ট্রাম্পের গোল্ড কার্ড ভিসা বিশ্বব্যাপী নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। নতুন এই নীতি বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের জন্য সুযোগ তৈরি করলেও সাধারণ অভিবাসীদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় বৈষম্যের আশঙ্কা জোরালো করছে।

তবে বাস্তবতা হলো—গোল্ড কার্ড নীতি এখন কার্যকর। ভবিষ্যতে এটি কতটা সফল হবে, কতটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ব্যবস্থাকে কোনদিকে নিয়ে যাবে—সবকিছুই সময়ের ওপর নির্ভর করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত