যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের নতুন বাণিজ্য আলোচনা শুরু

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৪৮ বার
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের নতুন বাণিজ্য আলোচনার সম্ভাবনা ও প্রভাব

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বাণিজ্য কর্মকর্তারা বুধবার থেকে দুদিনের আলোচনা শুরু করেছেন, যার উদ্দেশ্য নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছানো। যদিও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগেই কিছু অস্থিরতার মধ্যে ছিল, বিশেষ করে ওয়াশিংটনের ভারতীয় পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের পর থেকে। ফলে, নতুন চুক্তি বাস্তবায়ন হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ রিক সুইৎজার এই আলোচনায় অংশ নিতে ভারতে এসেছেন। যদিও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁর সফরকে ‘পরিচিতিমূলক সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছে, বাণিজ্য সংক্রান্ত আলোচনার জন্য তার সফর গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি বছরের আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের অধিকাংশ পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ভারত রাশিয়া থেকে স্বল্প মূল্যে অপরিশোধিত তেল কিনে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে অর্থ জোগান দিচ্ছে।

এপ্রিলে ট্রাম্প সরকার নতুন শুল্কনীতি ঘোষণার পর থেকে ভারতের সঙ্গে আলোচনা শুরু হলেও এখনো কোনো পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি হয়নি। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বেশিরভাগ ইস্যু সমাধান হয়েছে। তবে, গত সোমবার ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় চালের ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারে।

ভারতের শ্রমনির্ভর শিল্প এই শুল্কনীতির বাইরে থাকায় দেশের অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান ও বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ ভারত ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পণ্যবাণিজ্যে ৪৫ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করেছে। চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ভারতের রপ্তানি প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে।

গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের (জিটিআরআই) তথ্য অনুযায়ী, গত মে থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভারতের শ্রমনির্ভর খাত যেমন গহনা, টেক্সটাইল ও সামুদ্রিক খাবারের রপ্তানি ৩৭ থেকে ৬০ শতাংশ কমেছে। এতে দেশের ছোট ও মাঝারি শিল্পগুলোতে বড় ক্ষতির সৃষ্টি হয়েছে।

তবে দুই দেশ সাম্প্রতিকভাবে কয়েকটি ছোট চুক্তি সম্পন্ন করেছে। গত নভেম্বরে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ৯৩ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্রচুক্তি হয়েছে। এছাড়া দিল্লি তার মোট তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানি চুক্তির প্রায় ১০ শতাংশ আমেরিকা থেকে কিনবে। এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার সূচনা করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য চুক্তির পথ প্রশস্ত হতে পারে। তবে শুল্ক, বাজার প্রবেশাধিকার ও শ্রমনির্ভর খাতের নিরাপত্তা মূল ইস্যু হিসেবে থেকে গেছে। দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা ও বাণিজ্য সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে এখনো অনেক বিষয় সমাধান করা প্রয়োজন।

অর্থনীতিবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যদি নতুন চুক্তি না হয়, তাহলে ভারতের রপ্তানি খাত ও কর্মসংস্থানে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে শ্রমনির্ভর শিল্পের ক্ষতি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করতে পারে।

এই আলোচনার ফলাফল কেবল দুই দেশের অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং দক্ষিণ এশিয়ার বাণিজ্যিক পরিবেশকেও প্রভাবিত করবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের মধ্যে স্থিতিশীল বাণিজ্য চুক্তি তৈরি হলে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

নতুন আলোচনার মধ্য দিয়ে দুই দেশই আশা করছে, বাণিজ্য ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত, সুবিন্যস্ত ও ন্যায্যভাবে পরিচালিত করা যাবে। বিশেষ করে ভারতীয় রপ্তানি খাতের ক্ষতি কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত