চীন-রাশিয়ার যৌথ টহল নিয়ে ন্যাটোর উদ্বেগ

Reporter Name
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭৭ বার
চীন-রাশিয়ার যৌথ যুদ্ধবিমান টহল: ন্যাটোর উদ্বেগ

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চীন ও রাশিয়ার সাম্প্রতিক যৌথ যুদ্ধবিমান টহল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাটো। ন্যাটোর মহাপরিচালক মার্ক রুটে এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বুধবার রাতে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উদ্বেগ ব্যক্ত করেছেন। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দুই পক্ষ ঘটনার বিষয়ে একমত হয়েছেন এবং পরস্পরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন।

টোকিও থেকে পাওয়া এএফপি প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্তব্যে বেইজিং ক্ষুব্ধ হওয়ায় টোকিও-বেইজিং সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মঙ্গলবার চীন ও রাশিয়ার যৌথ টহল চালানো হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনা যুদ্ধবিমান তাইওয়ান সংলগ্ন আকাশে জাপানি বিমানের দিকে রাডার লক করেছে।

টহলের সময় রাশিয়ার দুটি টু-৯৫ পারমাণু সক্ষম বোমারু বিমান জাপান সাগর থেকে উড়ে পূর্ব চীন সাগরে চীনের দুটি এইচ-৬ বোমারু বিমানের সঙ্গে মিলিত হয়ে যৌথভাবে টহল চালায়। এ ঘটনার পর জাপান জরুরি ভিত্তিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়া জানায়, রাশিয়া ও চীনের যুদ্ধবিমান তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা অঞ্চলেও প্রবেশ করে, যার জবাবে সিউলও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে।

চীন পরে দাবি করে, রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়া তাদের ‘বার্ষিক সহযোগিতা পরিকল্পনার’ অংশ। রাশিয়া জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত মহড়া, যা প্রায় আট ঘণ্টা ধরে চলে। তবে ন্যাটো এবং জাপান এই যৌথ টহলকে অঞ্চলীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে।

গত মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি ঘোষণা করেছিলেন, যদি তাইওয়ানে চীনের হামলা হয়, জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবে। অন্যদিকে বেইজিং তাদের দাবির অধীনে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ দাবি করে এবং প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে চীন ও রাশিয়ার যৌথ টহলকে বিশেষভাবে সতর্কতার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার যৌথ টহল শুধু সামরিক মহড়া নয়, বরং এটি অঞ্চলীয় রাজনৈতিক প্রভাব দেখানোর চেষ্টা হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। ন্যাটো এবং জাপান এই ধরনের অভিযানকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায় ঝুঁকি হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে তাইওয়ান সংকটকে কেন্দ্র করে চীনের সামরিক কর্মকাণ্ড ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

ন্যাটো প্রধান রুটে এবং জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী কোইজুমি দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা এবং সমন্বয় বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। এই আলোচনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে ধরা হচ্ছে যে, সংঘর্ষ এড়াতে এবং ভুল বোঝাবুঝি রোধ করতে দেশগুলো কৌশলগত যোগাযোগ বজায় রাখছে।

সাম্প্রতিক যৌথ টহলের প্রেক্ষিতে, তাইওয়ান প্রণালীর আশেপাশে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ন্যাটোর মনোযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্যের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। ফলে অঞ্চলীয় শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সক্রিয় ভূমিকার প্রয়োজন।

চীনের এই পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার যৌথ অংশগ্রহণ ভবিষ্যতের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ন্যাটো ও জাপানই এই যৌথ মহড়ার ওপর নজর রাখছে এবং সম্ভাব্য উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের জন্য কৌশলগত প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন দ্বিধা সৃষ্টি করেছে।

চীনা ও রাশিয়ার যৌথ টহল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তাদের সামরিক সমর্থন প্রদর্শন করে, তবে এটি ন্যাটো এবং জাপানসহ পশ্চিমা ও আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক মহড়া এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক উত্তেজনা একসাথে পরিচালনা করা জটিল, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং দ্রুত সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত

Theme Dwonload From ThemesBazar.Com