ডিসেম্বরের ১৩ দিনে রেমিট্যান্স দাঁড়াল দেড় বিলিয়ন ডলারে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫৪ বার
দেড় বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ডিসেম্বরের প্রথম ১৩ দিনে দেশে প্রবেশ করেছে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ১৩ দিনের মধ্যে দেশে এসেছে ১৫০ কোটি ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার, যা দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তরিত করলে (প্রতি ডলার ১২২ টাকায়) ১৮ হাজার ৩৯০ কোটি টাকারও বেশি। এই সংখ্যাটি প্রমাণ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেমিট্যান্সের মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪০ হাজার ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৫ কোটি ৭৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকগুলো মাধ্যমে এসেছে ১০৯ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার ডলার, এবং বিদেশি ব্যাংকগুলো মাধ্যমে এসেছে ৩২ লাখ ৯০ হাজার ডলার। ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে প্রেরণ বৃদ্ধি পেতে বিভিন্ন প্রণোদনা, বৈধপথে টাকা পাঠানোর ওপর উৎসাহ এবং এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সক্রিয় ভূমিকা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে এসেছে মোট ১ হাজার ৩৬৭ কোটি ১০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স আসার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৭৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। ফলে এ বছর গত বছরের তুলনায় ১৯৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে, যা অর্থবছর হিসাবে ১৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রবাসী আয় ছিল: জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বর মাসে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবর মাসে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার এবং নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের মার্চ মাসে রেমিট্যান্স আসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার, যা ঐ অর্থবছরের একক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে ধরা হয়।

বাংলাদেশে রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগ, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে এই প্রবাসী আয় সরাসরি অবদান রাখে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ এর তুলনায় ২৬.৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ, ব্যাংকিং খাতের কার্যক্রম এবং প্রবাসীদের অবদান স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বিশেষ করে, বিভিন্ন প্রণোদনা ও উৎসাহমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে বৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল রাখছে। ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে উদ্দীপনা সৃষ্টি, নিরাপদ এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বজায় রাখার মাধ্যমে বিদেশি মুদ্রার প্রাচুর্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি কেবল দেশের বৈদেশিক মুদ্রা মজুতই বাড়ায়নি, বরং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও প্রভাবিত করেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি দেশীয় মুদ্রার মান স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে, দেশের ভোক্তা খরচ, উন্নয়নমূলক প্রকল্প এবং বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের সংস্থান নিশ্চিত করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এ ধরনের তথ্য দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তারা প্রবাসী আয়ের ধারা এবং তার বৃদ্ধি ধরে রেখে অর্থনীতিতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ, বিনিয়োগের সুযোগ এবং নীতি নির্ধারণ করতে সক্ষম হন। ফলে, রেমিট্যান্স শুধুমাত্র বৈদেশিক মুদ্রা আনার মাধ্যম নয়, বরং দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল ও স্থিতিশীল রাখার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রেমিট্যান্সের প্রভাব চোখে পড়ার মতো। এই আয় মানুষের জীবনমান উন্নত করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অবদান রাখে। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা, যা প্রবাসীদের শ্রম ও ত্যাগের ফল।

অতএব, ডিসেম্বরের প্রথম ১৩ দিনে প্রায় দেড় বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। এটি প্রমাণ করে প্রবাসীদের অবদান দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। দেশীয় ব্যাংকিং চ্যানেল, বৈধ পথ এবং এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর সক্রিয় ভূমিকা রেমিট্যান্সের ধারাবাহিক প্রবাহে সহায়ক হয়েছে এবং এটি দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে কাজ করছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত