দেশে ফেরার আগে লন্ডনে তারেক রহমানের শেষ জনসভা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৭০ বার
তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশে প্রত্যাবর্তনের আগে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে এক গুরুত্বপূর্ণ জনসভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিজয় দিবস উপলক্ষে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) পূর্ব লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়ন হলে এই জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক আবেগ, প্রত্যাশা ও দীর্ঘদিনের অপেক্ষার প্রেক্ষাপটে এই জনসভাকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

যুক্তরাজ্য বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই জনসভায় সভাপতিত্ব করবেন দলটির সভাপতি এম এ মালিক। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করবেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে সরাসরি বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান। বিজয় দিবসের ঐতিহাসিক তাৎপর্য, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা—সব মিলিয়ে এই জনসভা বিএনপির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মাইলফলক হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শুক্রবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন। দীর্ঘ সময় পর তার এই দেশে ফেরা জাতীয় রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সেই প্রেক্ষাপটে লন্ডনের এই জনসভাকে তারেক রহমানের প্রবাসকালীন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের এক ধরনের সমাপ্তি অধ্যায় হিসেবেও দেখছেন অনেকে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দেশে ফেরার আগে এটিই হতে পারে লন্ডনে তারেক রহমানের সর্বশেষ বড় জনসভা।

যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খসরুজ্জামান খসরু জানিয়েছেন, এই জনসভাকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেন, দেশে ফেরার আগে তারেক রহমানকে এক নজর দেখার এবং তার বক্তব্য শোনার জন্য সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রবাসে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ বাংলাদেশিরা এই জনসভাকে নিজেদের রাজনৈতিক অনুভূতি প্রকাশের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ইতোমধ্যে জনসভাকে সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিজয় দিবস বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীনতা। সেই ঐতিহাসিক দিনে লন্ডনের মাটিতে তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিজয়ের চেতনা পুনরুজ্জীবনের এক আবেগঘন আয়োজন হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনসভায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হবে এবং বিজয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরা হবে বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে।

তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার প্রভাব বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বিএনপির সাংগঠনিক পুনর্গঠনে তার ভূমিকা দলের ভেতরে ও বাইরে আলোচিত। দলের নেতাকর্মীরা আশা করছেন, এই জনসভায় তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচন, গণতন্ত্র ও রাষ্ট্র পরিচালনা বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেবেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য লন্ডনের এই জনসভা আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে থেকেও তারা দেশের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অনেকেই মনে করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে, যেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা ও অবদানও নতুন করে মূল্যায়িত হবে।

জনসভা উপলক্ষে সিটি প্যাভিলিয়ন হলে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তাই সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন শাখা ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই জনসভাকে সফল করতে একযোগে কাজ করছেন।

সব মিলিয়ে, দেশে ফেরার প্রাক্কালে লন্ডনে তারেক রহমানের এই জনসভা শুধু একটি রাজনৈতিক সমাবেশ নয়, বরং বিএনপির রাজনীতিতে একটি প্রতীকী ও আবেগঘন মুহূর্ত। বিজয় দিবসের দিনে প্রবাসের মাটিতে দাঁড়িয়ে তারেক রহমান কী বার্তা দেন, সেদিকে তাকিয়ে আছে দেশের রাজনীতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত