সিইসির মন্তব্যে ক্ষুব্ধ জামায়াত, ব্যাখ্যা দাবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৬৩ বার
জামায়াত আমির

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশের সাধারণ মানুষ যেখানে ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সমব্যাথী, সেখানে নির্বাচন কমিশনের (সিইসি) বক্তব্যে তারা ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন, সিইসিকে এই বিষয়ে নিজের জায়গা এবং বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে হবে।

ডা. শফিকুর রহমান এ কথা বলেন সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এক আলোচনা সভায়। তিনি বলেন, ‘একজন বিপ্লবী আহত হলে এবং তারপর সরকার নড়েচড়ে বসবে—এমন সরকার আমরা চাই না। আমরা চাই যে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এমনভাবে কাজ করুক যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে এবং স্বাধীনভাবে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে।’

জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘৫৪ বছর ধরে দেশের ভাগ্য চোরাবালিতে হারিয়ে গিয়েছিল। সেই অভ্যুত্থানের ঐক্যকে আঁকড়ে ধরে এবার আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। জামায়াত ক্ষমতায় এলে আমরা সব দলকে নিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তুলব।’ তিনি ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোষ না করার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের সঙ্গে অনেকেই আপোষ করেছে, কিন্তু জামায়াত কখনো আপোষ করে না। এখনো কোনো অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ করা হবে না।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের ভালো না লাগলে পুরো মিডিয়া থেকে ব্ল্যাক আউট করতে পারেন, কিন্তু কোনো খণ্ডিত অংশ প্রচার করে আমাদের বিরুদ্ধে প্রপাগাণ্ডা ছড়াবেন না। ন্যায়সঙ্গত ও সত্য হলে আমাদের বিরুদ্ধে সমালোচনা মাথা পেতে নেবো, কিন্তু জাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। আমাদেরকে ছাই দিয়ে ধরুন, তবে সেই ধরাটা যেন ন্যায়সঙ্গত হয়—এটুকুই আমাদের অনুরোধ।’

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে মানুষ প্রাণ দিয়েছেন, তা এখনও পূর্ণরূপে অর্জিত হয়নি। বিগত দিনে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা হয়তো নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে, কিন্তু দেশের মানুষের ভাগ্য অপরিবর্তিত রয়েছে।’

রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীদের এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। তাহলে সরকারের কাজটা কি? এই ঘটনার জন্য দায়িত্ব নেওয়া উচিত। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ এই ব্যর্থতার প্রতীক হতে পারে।’

এটিএম মাসুম, জামায়াতের এক সিনিয়র নেতা বলেন, ‘গত ৫৪ বছরে এদেশের মানুষ সত্যিকারের স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। শাসকদের কারণে জাতি হিসেবে আমরা বারবার বিভক্ত হয়েছি। অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, তা ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে হাদির ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।’

ডা. শফিকুর রহমান ও অন্যান্য জামায়াত নেতারা এদিনের আলোচনায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও শাসক কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার প্রতি কঠোর সমালোচনা করেন। তারা বলেন, জনগণকে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং স্বাধীন মত প্রকাশের সুযোগ দিতে সরকারকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষায় তারা সব ধরনের সহিংসতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে। নেতারা মনে করিয়ে দেন, জাতির ভাগ্য সুরক্ষিত রাখতে এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সংলাপ ও সমন্বয় অপরিহার্য।

ডা. শফিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, দেশের স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক কাঠামো ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বজায় রাখা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিকের ওপর হামলা হলে সরকারকে তা নীরবে না দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি গ্রহণযোগ্য নয়।’

এদিনের আলোচনা সভায় জামায়াতের নেতারা আরও বলেন, সমাজ ও দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করতে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সংবাদ পরিবেশকে সতর্কভাবে ব্যবস্থাপনার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গততা ও সত্যতা অপরিহার্য।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নেতারা পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ‘সংবাদমাধ্যমের কাছে আমাদের অনুরোধ, সত্য ও ন্যায়সঙ্গত হওয়া উচিত, যাতে জাতি বিভক্ত না হয় এবং দেশের স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। কোনো প্রপাগাণ্ডা বা পক্ষপাতমূলক প্রচারণা দেশ ও জনগণের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।’

বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় এই মন্তব্যগুলি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি, বিশেষ করে ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের দায়িত্বশীলতার অভাব ও নির্বাচন কমিশনের বক্তব্যের প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে।

জামায়াত নেতারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারা সরকারের সব ধরনের ব্যর্থতার প্রতি জনমতকে সচেতন করতে এবং দেশের জনগণের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার থাকবে। একই সঙ্গে তারা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার আহ্বানও জানান, যাতে দেশের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত হয়।

এই আলোচনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক কাঠামো, স্বাধীনতা, সামাজিক ন্যায় ও শাসক কর্তৃপক্ষের দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করলে দেশের স্থিতিশীলতা ও জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত